খন্দক বা আহযাব যুদ্ধ (শাওয়াল ৫ হি.)

খন্দক বা আহযাব যুদ্ধ (শাওয়াল ৫ হি.)

৫ম হিজরীর শাওয়াল মাসে খন্দক বা আহযাব যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটি সেই সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও সমর অভিযানগুলোর অন্যতম যার প্রভাব-প্রতিক্রিয়া ইসলাম ও মুসলমানদের ইতিহাস, ইসলামী দাওয়াত ও তাবলীগের ভবিষ্যৎ, দীনে হকের প্রসার ও বিস্তার এবং ইসলামের অগ্রাভিযানের ক্ষেত্রে খুবই সুদূরপ্রসারী ফলদায়ক প্রমাণিত হয়েছে। এটি ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ এবং এমন একটি কঠিন পরীক্ষা যার অভিজ্ঞতা মুসলমানদের ইতোপূর্বে কখনো হয়নি।

“যখন তারা তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল উচ্চভূমি ও নিম্নভূমি থেকে এবং যখন তোমাদের দৃষ্টিবিভ্রম হচ্ছিল, প্রাণ কণ্ঠাগত হয়েছিল এবং তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে নানা বিরূপ ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছিলে, সে সময় মু’মিনগণ পরীক্ষিত হয়েছিল এবং ভীষণভাবে প্রকম্পিত হচ্ছিল” (সূরা আহযাব, ১০-১১ আয়াত)।

এই যুদ্ধের মূল কারণ ছিল ইয়াহূদীরা। ঘটনার বিবরণ এই যে, বনী নাদীর ও বনী ওয়াইলের কিছু লোক মক্কায় যায় এবং কুরায়শদের সঙ্গে দেখা করে তাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরুদ্ধে উস্কানি দিতে ও উত্তেজিত করতে শুরু করে। কুরায়শদের এ ধরনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ছিল এবং তারা বহু আগে থেকেই এর ফল ভোগ করে আসছিল। এজন্য তারা এর সাহস করছিল না। কিন্তু ইয়াহূদীদের প্রতিনিধি দলটি অবস্থাকে অত্যন্ত অনুকূল ও উপযোগী করে তাদের সামনে তুলে ধরে। তারা এও আশ্বাস দেয় যে, এমতাবস্থায় আমরা আপনাদের সাথেই থাকব এবং যতদিন না এই দীনকে জড়েমূলে উৎখাদন করতে পারব ততদিন আমরা দম নেব না। এ কথায় কুরায়শরা খুব খুশী হয় এবং আনন্দাতিশয্যে তাদের এই আহ্বান কবুল করে। সকলেই এ বিষয়ে একমত হয় এবং সমর প্রস্তুতিতে লেগে যায়। প্রতিনিধি দল এখান থেকে বেরিয়ে গাতাফান গোত্রে গমন করে এবং তাদেরকেও এই যুদ্ধে শরীক হওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের বিভিন্ন গোত্রের ভেতর ঘুরে ফিরে মদীনার ওপর হামলার নতুন পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে তাদের সামনে তুলে ধরে এবং কুরায়শরা যে অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে যুদ্ধে আসছে সে বিষয়েও সবাইকে অবহিত করে।

এই সকল প্রয়াসের ফলে তাদের মধ্যে একটি সামরিক চুক্তি হয় যার গুরুত্বপূর্ণ শরীক ছিল কুরায়শ, ইয়াহূদী ও গাতাফান গোত্র। তারা আরও কিছু শর্তের ব্যাপারেও একমত হয় যার ভেতর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল এই যে, গাতাফান গোত্র এই মিত্র বাহিনীতে ছয় হাজার সৈন্যসমেত অংশ নেবে। এর বিনিময়ে ইয়াহূদীরা গাতাফান গোত্রকে খায়বারের বাগানগুলোর গোটা বছরের ফসল প্রদান করবে। মোটের ওপর কুরায়শরা চার হাজার যোদ্ধা এতদুদ্দেশ্যে সমবেত করে, গাতাফান করে ছয় হাজার। আর এ সংখ্যা সাকুল্যে দাঁড়ায় দশ হাজারে। সেনাবাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করা হয় আবূ সুফিয়ানকে।

প্রজ্ঞা মু’মিনের হারানো সম্পদ

রাসূলুল্লাহ (সা) এই সম্মিলিত অভিযানের সংবাদ পেতেই এবং তাদের এই সংকল্প যে, তারা মুসলমানদের অস্তিত্ব ধরাপৃষ্ঠ থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে,

অবহিত হতেই মুসলমানদের ডেকে পরিস্থিতির নামুকতা সম্পর্কে অবগত করান। মুসলমানরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি গ্রহণ করেন এবং যুদ্ধের জন্য তৈরি হন। তাঁরা এবার মদীনার অভ্যন্তরে দুর্গবন্দী থেকে প্রতিরোধ বা আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধকে অগ্রাধিকার দান করেন। এ সময় মুসলিম বাহিনীর সংখ্যা ছিল তিন হাজার।

এবার হযরত সালমান ফারসী (রা) মদীনার সামনে খন্দক (পরীখা) খননের পরামর্শ দিলেন। এটি ছিল ইরানীদের অতি পরিচিত সামরিক কর্মকৌশল। হযরত সালমান (রা) আরজ করেন : হে আল্লাহর রাসূল! ইরানে যখন আমরা অশ্বারোহী বাহিনীর হামলার আশঙ্কা করতাম তখন আমরা তাদের মোকাবিলায় খন্দক খনন করতাম। রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর এই অভিমত অত্যন্ত পছন্দ করেন এবং মদীনার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ময়দানে খন্দক খননের নির্দেশ দিলেন। এটি ছিল সেই খোলা অংশ যেখান থেকে শত্রু মদীনার ভেতরে প্রবেশের সহজ সুযোগ পেতে পারত।

রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দক খননের কাজ তাঁর সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে এভাবে বণ্টন করে দিলেন যে, প্রতি দশজনের ভাগে চল্লিশ (৪০) হাত খননের দায়িত্ব বর্তায়। খন্দকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫ (পাঁচ) হাজার হাত, গভীরতা সাত থেকে দশ হাত এবং প্রস্থ সাধারণভাভে নয় হাতের কিছু বেশি হবে।

মুসলমানদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সাম্যের নতুন স্রোত

রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দক খননের ক্ষেত্রে স্বয়ং মুসলমানদের সঙ্গে শরীক ছিলেন এবং সকলে মিলে পূর্ণ হিম্মত ও দৃঢ়তা সহকারে এই কাজ আঞ্জাম দেন। শৈত্য প্রবাহ ছিল খুব তীব্র। খাদ্যের পরিমাণ ছিল এত কম যাতে কোনক্রমে জীবন রক্ষা করা চলে। কখনও আবার তাও মিলত না। হযরত আবূ তালহা (রা) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে ক্ষুধার কথা বললাম এবং নিজেদের পেট খুলে দেখালাম। সেখানে তখন একটা পাথর বাঁধা ছিল। এতদ্দৃষ্টে রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর পেটের ওপর থেকে কাপড় সরিয়ে নিলেন। আমরা দেখতে পেলাম সেখানে দু’টো পাথর বাঁধা।

এতদসত্ত্বেও সবাই ছিলেন আনন্দোফুল্ল। সকলেই আল্লাহ তা’আলার শোকর আদায় করতেন, ছন্দোবদ্ধ কবিতা আবৃত্তি করতেন, তাঁর প্রশংসাগীতি গাইতেন এবং তাঁদের মুখে অভিযোগের একটি বাক্যও ছিল না।

হযরত আনাস (রা) বর্ণনা করেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দকের নিকট তশরীফ নিলেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, মুহাজির ও আনসাররা সকাল সকাল ঠান্ডার ভিতর খন্দক খননে ব্যস্ত। তাঁদের নিকট গোলামও ছিল না এবং কর্মচারীও ছিল না যারা তাঁদের পরিবর্তে এই কাজ আঞ্জাম দিত। তাদের এই কঠিন পরিশ্রম ও ক্ষুধা-তৃষ্ণাদৃষ্টে তাঁর যবান মুবারক থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই দো’আ উচ্চারিত হল :

“হে আল্লাহ্! আখেরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন; অতএব আনসার ও মুহাজিরদের তুমি ক্ষমা কর।”

এতচ্ছ্রবণে উত্তরে তাঁরা বললেন :

“আমরা তো তারাই যারা মুহাম্মাদ (সা)-এর নিকট আমাদের জীবন প্রদীপ অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত জিহাদের বায়’আত গ্রহণ করেছি।”

হযরত আনাস (রা) আরও বর্ণনা করেন, কোথাও থেকে এক মুষ্টি যব মিলে গেলে তার মলীদা (পানির দ্বারা দলিত ময়দা বা আটার পিণ্ড) বানানো হত এবং এতে অল্প পরিমাণে চর্বি মিশিয়ে নেওয়া হত, অথচ তার স্বাদ ও গন্ধে সবটার ভেতরই পার্থক্য দেখা দিত।

সংকট সন্ধিক্ষণ ও অবরোধের আঁধারে ইসলামী বিজয়ের আলোক রশ্মি

খন্দক খনন করাকালে এক জায়গায় একটি বিরাটকায় পাথর সামনে পড়ল। কোদাল পাথরের কাছে হার মানায় সকলেই রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে গিয়ে ব্যাপারটা তাঁকে অবহিত করলেন। পাথরটি দেখার পর তিনি নিজেই কোদাল তুললেন এবং বিসমিল্লাহ বলে এমন জোরে পাথরে আঘাত করলেন যে, পাথরের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে গেল। তিনি তখন বললেন, আল্লাহু আকবার! আমাকে সিরিয়ার চাবিগুচ্ছ দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি অপর তৃতীয়াংশ ভাঙলেন এবং

বললেন : আল্লাহু আকবার! আমাকে পারস্যের চাবিগুচ্ছও দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! আমি আমার নিজের চোখে মাদায়েনের শ্বেত প্রাসাদ দেখতে পাচ্ছি। এরপর তৃতীয় বারের মত বিসমিল্লাহ বলে বাকি অংশের ওপর আঘাত করলে পাথরটি টুকরো টুকরো হয়ে গেল। তিনি বললেন : আল্লাহু আকবার! আমাকে যামানের চাবিগুচ্ছও দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর কসম! ক্ষণে আমি এই জায়গায় সান’আ শহরের দরজা দেখতে পাচ্ছি। এই কথা তিনি তখন বলেছিলেন যখন মুসলমানদের নিজেদের নিরাপদে বেঁচে যাওয়াটাই নিশ্চিত ছিল না। একদিকে ক্ষুধা তাঁদেরকে ক্লান্ত ও কাহিল করে তুলছিল, অপরদিকে তীব্র শৈত্য প্রবাহ তাঁদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলছিল। তৃতীয়ত, শত্রু ছিল মাথার ওপর।

খন্দক যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কয়েকটি মু’জিযা

এই যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কয়েকটি মু’জিযা প্রকাশিত হয়। মুসলমানরা যখন খন্দক খনন করতে কোন কষ্টক্লেশের সম্মুখীন হতেন অথবা এ ধরনের কোন বাঁধা কিংবা প্রতিবন্ধকতা সামনে এসে দেখা দিত তখন তিনি কোন পাত্রে পানি চাইতেন, এরপর তিনি তাতে কুলি করতেন এবং যা কিছু আল্লাহ তা’আলা তাঁকে দিয়ে বলাতেন তা দিয়ে দু’আ করতেন। এরপর উক্ত পানি পাথরের ওপর ছিটিয়ে দেওয়া হলে তা বালির ঢিবির মত নরম হয়ে যেত।

খাবারে এমন খোলামেলা বরকত হত যে, অল্প খাবারও বিরাট সংখ্যক লোকের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেত। কেবল যথেষ্টই হত না, বরং সমগ্র বাহিনীই পরিতৃপ্ত হয়ে যেত।

হযরত জাবির ইবন আবদুল্লাহ (রা) বলেন, আমরা খন্দকের দিন খনন কাজ করছিলাম। এমন সময় বিরাট বড় এক শক্ত পাথর সামনে এসে দেখা দিল। সকলে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে গিয়ে হাজির হলেন এবং বললেন যে, এই একটি বিরাট বড় শক্ত পাথর সামনে এসে দেখা দিয়েছে যা খন্দক খননে বাঁধার সৃষ্টি করছে। তিনি বললেন, আচ্ছা, আমি নামছি। এরপর তিনি এমন অবস্থায় দাঁড়ালেন যে, তাঁর পেটে তখন একটি পাথর বাঁধা। সে সময় আমাদের অবস্থা ছিল এ রকম যে, তিনদিন যাবত আমাদের পেটে দানাপানি কিছুই পড়েনি। রাসূলুল্লাহ (সা) কোদাল তুললেন এবং ঐ পাথরের ওপর মারলেন। মারার সাথে সাথেই পাথরটি বালির মতই ধ্বসে গেল। আমি আরজ করলাম :

ইয়া রাসূলুল্লাহ! কিছুক্ষণের জন্য আমাকে আমার ঘরে যাবার অনুমতি দিন। (অনুমতি পাবার পর) ঘরে গিয়ে আমি আমার স্ত্রীকে বললাম : আমি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে এমন অবস্থায় দেখেছি যে, দেখার ধৈর্য আমার নেই। তোমার কাছে কি খানাপিনার মত কিছু আছে? স্ত্রী বললেন : হ্যাঁ, কিছু যব আছে আর আছে একটি বকরীর বাচ্চা। আমি বকরীর বাচ্চাটাকে যবেহ করলাম, যব পিশলাম এবং এক ডেকচিতে গোেশ্ত চড়িয়ে দিলাম। আমি যখন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর খেদমতে যেতে লাগলাম তখন আটা মাখা হয়ে গিয়েছিল। ডেকচি ছিল চুলার ওপর। রান্না প্রায় শেষ হওয়ার পথে। আমি ফিরে গিয়ে রাসূল (সা)-কে বললাম, আমি অল্প কিছু থানার ব্যবস্থা করেছি। আপনি দুই একজনকে সাথে নিয়ে মেহেরবানী করে চলুন। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : থানার পরিমাণ কতটা হবে? আমি বিস্তারিত বললাম। শুনে তিনি বললেন : এতো অনেক বেশি! ঠিক আছে। তুমি ঘরে গিয়ে বল যে, আমি না আসা পর্যন্ত ডেকচি চুলা থেকে যেন না নামায় এবং উনুন থেকে রুটিও যেন বের না করে। এরপর তিনি সকলকে ডেকে বললেন : লোকসকল! বিসমিল্লাহ। অনন্তর সমস্ত মুহাজির ও আনসার দাঁড়িয়ে পড়লেন আর আমি আমার স্ত্রীর কাছে গেলাম এবং বললাম : খবর রাখ কিছু? ওদিকে রাসূলুল্লাহ (সা) সমস্ত আনসার, মুহাজির এবং সাথে যত লোক ছিল সবাইকে সাথে করে আসছেন। স্ত্রী বললেন : খাবারের ব্যাপারে তিনি কি কিছু জিজ্ঞেস করেছেন? জাবির বললেন : হ্যাঁ! (ইতিমধ্যে আল্লাহর রাসূল এসে উপস্থিত হয়ে) বললেন : লোকসকল! তোমরা ভেতরে প্রবেশ কর আর ভীড় কর না। এরপর তিনি রুটি টুকরো করে এক একটি টুকরোর ওপর গোেশ্ত রাখছিলেন আর এক একজনকে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর গোেশ্ত ও রুটি নেবার পর ডেকচি ও উনুন ঢেকে দিচ্ছিলেন এবং সাহাবায়ে কিরামের সামনে গোেশ্ত রুটি পেশ করছিলেন। এরপর কাপড় সরিয়ে পূর্বে মতই রুটি ছিড়তেন, গোেশ্ত নিতেন এবং সাহাবায়ে কিরামকে দিতেন। শেষাবধি সবার পেট ভরে গেল এবং এরপর খাবার উদ্বৃত্ত থেকে গেল। এরপর তিনি জাবির (রা)-এর স্ত্রীকে বললেন : এখন তুমি খাও এবং অন্যদেরকে খেতে দাও! কেননা সকলেই এখনও ক্ষুধা ও অনাহারে রয়েছে।

অপর এক বর্ণনায় হযরত জাবির (রা) থেকে এ কথাও উদ্ধৃত হয়েছে যে, আমি হুযূর (সা)-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম এবং আস্তে বললাম : ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা একটা জানোয়ার যবেহ করেছি আর আমাদের কাছে অল্প কিছু যব ছিল যা পিষেছি। আপনি সাথে দুই-একজনকে নিয়ে চলুন। (একথা শুনতেই)

তিনি সজোরে ডাকলেন : খন্দকবাসী! জাবির এক বিরাট দাওয়াতের ইন্তেজাম করেছে।

কঠিন পরীক্ষা

কুরায়শরা সামনে অগ্রসর হয়ে মদীনার উপকণ্ঠে ছাউনি ফেলল। তাদের সৈন্য সংখ্যা ছিল দশ হাজার। গাতাফান গোত্র ও তাদের প্রভাবাধীন গোত্রসমূহ ঐ জায়গায় অবস্থান নিল। রাসূলুল্লাহ (সা) তিন হাজার মুসলমানসহ তাদের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। খন্দক ছিল এই উভয় বাহিনীর মাঝে অন্তরায়স্বরূপ। মুসলমান ও কুরায়জা গোত্রের মধ্যে একটি চুক্তি ছিল। বনু নাদীরের সর্দার হুয়াই ইবন আখতাব তাদের কথায় পড়ে গোত্রের লোকদের চুক্তি ভঙ্গে উৎসাহিত করল। বনী কুরায়জা কিছুটা অস্বীকৃতি ও দ্বিধার সঙ্গে এই পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। এর ফলে ভীতি ও সন্ত্রাস সমগ্র শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মুনাফিকরাও সুযোগ বুঝে হাত-পা মেলতে শুরু করল। (এইরূপ সংকটময় পরিস্থিতিতে) রাসূলুল্লাহ (সা) ধারণা করলেন যে, এমতাবস্থায় গাতাফান গোত্রের সঙ্গে এই শর্তে সন্ধি ও সমঝোতা করা ভাল হবে যে, মদীনায় উৎপন্ন ফলের এক-তৃতীয়াংশ সর্বদা তাদেরকে দেওয়া হবে। আর এ ধারণার পেছনে আনসারদের প্রতি মমত্ববোধ ও সহানুভূতি ছিল একমাত্র কারণ। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ধারণায় যুদ্ধের দরুন আনসারদের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে। কাজেই তিনি তাঁদেরকে আরও বেশি পরীক্ষার মাঝে ফেলতে চাচ্ছিলেন না। কিন্তু আওস ও খাযরাজ দলপতি সা’দ ইবন মু’আয ও সা’দ ইবন উবাদা (রা)-র হিম্মত ও অটুট মনোবল এবং তাঁদের সংকল্পের দৃঢ়তা ও স্থিরচিত্ততাদৃষ্টে তিনি স্বীয় অভিমত পরিবর্তন করেন। তাঁরা বললেন, যে সময় আমরা শিরক ও মূর্তিপূজার মধ্যে আকণ্ঠ নিমজ্জিত ছিলাম, যখন না আমরা আল্লাহর ইবাদত করতাম, আর না তাঁকে চিনতাম, সে সময়ও আমরা খেজুরের একটি দানাও (খানাপিনার যিয়াফত ও কেনা-বেচা ছাড়া) তাদেরকে দেওয়ার জন্য তৈরি ছিলাম না। আর এখন যখন আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম দ্বারা ধন্য ও অনুগ্রহীত করেছেন, তিনি আমাদেরকে হেদায়াত দান করেছেন, আপনার পবিত্র সত্তা ও ইসলাম দ্বারা আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন তখন আমরা তাদেরকে আমাদের মাল-সম্পদ দেব? আল্লাহর কসম! আমাদের এর কোনই প্রয়োজন নেই। আমাদের কাছে তাদের জন্য তলোয়ার ছাড়া আর কিছু নেই যতক্ষণ না আল্লাহ

তা’আলা তাদের ও আমাদের মাঝে ফয়সালা করেন। রাসূলুল্লাহ (সা) এতচ্ছ্রবণে বললেন : তোমাদের ইচ্ছাই প্রতিপালিত হবে।

কাফির ও মুসলিম বীরের শক্তি পরীক্ষা

রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাথে সমস্ত মুসলমানই সেখানে (ছাউনি ফেলে) অবস্থান করলেন। দুশমন তাঁদেরকে অবরোধ করে রেখেছিল, কিন্তু অবস্থা তখনও যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়নি। অবশ্য শত্রুর দুই-একজন অশ্বারোহী সৈনিক ঘোড়া ছুটিয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছে এবং খন্দক প্রান্তে এসে থেমে গেছে। তারপর গভীর খন্দকদৃষ্টে বলাবলি করেছে যে, এ যে দেখছি এক নতুন কৌশল, নতুন জাল বিছানো হয়েছে, এরা যার সঙ্গে পরিচিত নয়। এরপর এভাবে তাদেরই একটি দল খোঁজ করতে করতে এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছে যেখানে খন্দকের প্রশস্ততা খুবই কম ছিল। সেখানে পৌঁছে তারা ঘোড়ার পাঁজরে গুঁতা মারতেই ঘোড়া এক লাফে খন্দক পেরিয়ে চলে এল এবং মদীনার ভূখণ্ডে দৌড়ে বেড়াতে লাগল। এই দলের মধ্যে আরবের প্রখ্যাত অশ্বারোহী বীর আমর ইবন আবদুউদ ছিল যাকে এক হাজার অশ্বারোহী সৈনিকের সমকক্ষ গণ্য করা হত। সে এক স্থানে থেমে হাঁক ছাড়ল : আছে এমন কেউ যে আমার মোকাবিলা করবে? এতচ্ছ্রবণে হযরত আলী (রা) তার সামনে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন : আমর! তুমি আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিলে যে, কুরায়শদের কেউ তোমাকে দুটো বিষয়ে দাওয়াত দিলে তার একটি তুমি অবশ্যই কবুল করবে। ‘আমর স্বীকার করল এবং বলল, হ্যাঁ, আমি এ কথা বলেছিলাম। হযরত আলী (রা) বললেন : ঠিক আছে। আমি তোমাকে আল্লাহর, তদীয় রাসূলের ও ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। সে বলল : আমার এর কোন প্রয়োজন নেই। হযরত আলী (রা) বললেন : তাহলে আমি তোমাকে মোকাবিলার দাওয়াত দিচ্ছি। সে তখন বলতে লাগল : ভাতিজা আমার! আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে হত্যা করতে চাই না। হযরত আলী (রা) বললেন : কিন্তু আল্লাহর কসম! তোমাকে আমি অবশ্যই হত্যা করতে চাই।

এ কথা শুনে আমরের রক্ত গরম হয়ে গেল। সে অশ্বপৃষ্ঠ থেকে লাফিয়ে নেমে পড়ল এবং তার সুরুশ কেটে দিল। রাগে-ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে সে তার মুখে সজোরে এক থাপ্পড় মারল। এরপর সেই অবস্থায় হযরত আলী (রা)-এর দিকে ফিরল।

শুরু হল শক্তি পরীক্ষা। কিছুক্ষণ উভয়েই আপন আপন রণনৈপুণ্য ও তুলোয়ার চালনার অপূর্ব কৌশল প্রদর্শন করল। অতঃপর হযরত আলী (রা) আমরের

ভবলীলা সাঙ্গ করলেন। আমরের সঙ্গী অপর ঘোড়সওয়ারের নাম ছিল নওফাল ইবন মুগীীরা। সে এসব দেখে লাফিয়ে খন্দক পার হয়ে ঊর্ধ্বশ্বাসে পালাল।

জিহাদ ও শাহাদাতের জন্য মায়ের অনুপ্রেরণা দান

উম্মুল-মু’মিনীন হযরত আয়েশা (রা) সে সময় বনী হারিছার দুর্গে অন্যান্য মুসলিম মহিলাদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত পর্দার হুকুম নাযিল হয়নি। তিনি বর্ণনা করেন, সা’দ ইবন মু’আয (রা) একদিন দুর্গের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন এত ছোট লৌহবর্ম পরিধান করেছিলেন যে, তাঁর গোটা হাতটাই ছিল এর বাইরে। তিনি রণসঙ্গীত গাইতে গাইতে যাচ্ছিলেন। তাঁর মা তাঁকে এ অবস্থায় দেখে বলেন : বেটা! তুমি অনেক দেরী করে ফেলেছ, তাড়াতাড়ি যাও। হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, আমি তাকে বললাম : উম্মু সা’দ (সা’দ-এর মা)! আল্লাহর কসম, আমার মন বলছে সা’দ-এর লৌহবর্ম এর চেয়ে যদি আরেকটু বড় হত। অনন্তর তাই হল যার আশঙ্কা হযরত আয়েশা (রা) প্রকাশ করেছিলেন। এই খোলা হাতের ওপর একটা তীর এমনভাবেই এসে লাগল যে, তাতে হাতের মূল শিরাটাই কেটে গেল। ফলে তিনি এই আঘাতের পরিণতিতে বনী কুরায়জা অভিযানে শাহাদাতবরণ করেন।

গায়বী মদদ

মুশরিকরা মুসলমানদেরকে এভাবে ঘিরে ফেলে যেভাবে কোন দুর্গে কোন বাহিনীকে অবরুদ্ধ করা হয়। এই অবরোধ প্রায় এক মাস কাল অব্যাহত থাকে। ইতোমধ্যে তাদেরকে সর্বপ্রকার মুসীবত ও তাকলীফের মুখোমুখি হতে হয়। এ সময় মুনাফিকদের মুনাফিকীও জাহির হয়ে যায়। অনন্তর তাদের কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট মদীনায় ফিরে যাবার অনুমতি প্রার্থনা করে। আর এ জন্য বাহানা পেশ করে যে, তাদের বাড়ীঘর অরক্ষিত, অথচ ব্যাপারে তা ছিল না। সকলের ঘরই নিরাপদ ও সুরক্ষিত ছিল। এ ছিল কেবল পালাবার ফন্দি মাত্র।

রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাহাবাগণ ভয় ও পেরেশানীর মধ্যে কাল কাটাচ্ছিলেন। এমন সময় আকস্মিকভাবে গাতাফান গোত্রের নু’আয়ম ইবন মাসউদ তাঁর খেদমতে হাজির হন এবং বলেন : হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমার কওম আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানে না। এখন আপনার অভিপ্রায় মাফিক হুকুম করুন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : তুমি একলা মানুষ। তুমি

ওখানে থেকেই আমাদের সাহায্য কর। যুদ্ধ চাতুর্য বা কৌশলের নাম। নু’আময় ইবন মাসউদ (রা) সেখান থেকে বিদায় নিয়ে বনী কুরায়জার কাছে গেলেন এবং তাদের সঙ্গে এমন কিছু কথাবার্তা বললেন যে, তাদের নিজেদের গৃহীত অবস্থান ও নীতির ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হল। তাদের মনে এই সন্দেহ দেখা দিল যে, কুরায়শ ও গাতাফান গোত্রের সঙ্গে (যারা বাইরের লোক) তাদের এই সম্পর্ক ও মাখামাখি এবং মুহাজির ও আনসারদের সঙ্গে (যারা স্থানীয় বাসিন্দা ও তাদের পুরনো প্রতিবেশী) তাদের এই শত্রুতা কতটা ঠিক হচ্ছে। নু’আময় তাদেরকে এও পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, কুরায়শ ও গাতাফানের সমর্থনে লড়াই করার পূর্বে তাদের কিছু বিশিষ্ট লোক ও সর্দারকে তাদের (বনু কুরায়জার) জামিন হিসাবে রেখে দেওয়া ভাল যাতে তাদের ওপর ভরসা করা যায়। তারা এ কথা শুনে বলল : আসলেই তুমি আমাদেরকে খুবই ভাল কথা শুনিয়েছ। এরপর তিনি সেখান থেকে উঠে কুরায়শ নেতৃবৃন্দের কাছে যান এবং নিজেকে তাদের শুভাকাঙ্ক্ষী বন্ধু ও কল্যাণকামী হিসেবে তুলে ধরার পর বলেন, ইয়াহূদীরা তাদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত। তারা এখন ভাবছে, কুরায়শদের কিছু অভিজাত ও নেতৃস্থানীয় লোক বন্ধক হিসাবে তাদের হাতে থাকুক যাতে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গের কোনরূপ আশঙ্কা না থাকে। তাদের ইচ্ছা, এই নেতৃবৃন্দকে তারা মুহাম্মাদ (সা)-এর হাতে তুলে দেবে এবং তিনি তাদের মাথা তলোয়ার দিয়ে উড়িয়ে দেবেন। এরপর তিনি গাতাফান-এর কাছে গেলেন এবং তাদেরকেও তাই বললেন যা তিনি কুরায়শদেরকে বলেছিলেন। ফল দাঁড়াল এই যে, উভয় পক্ষ পরস্পর সম্পর্কে সতর্ক ও সজাগ হয়ে গেল এবং তাদের মনে ইয়াহূদীদের সম্পর্কে গভীর ঘৃণা দেখা দিল। সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হল এবং পরস্পর পরস্পরকে ভয় পেতে লাগল। অনন্তর আবূ সুফিয়ান ও গাতাফান গোত্রের নেতৃবৃন্দ যখন চূড়ান্ত যুদ্ধের সূচনা করতে চাইল তখন ইয়াহূদীরা তালবাহানা করতে শুরু করল এবং তাদের কিছু লোক জামিন হিসাবে চেয়ে বসল। এ কথা শুনতেই তাদের নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মাল যে, নু’আময় ইবন মাস’উদ (রা) যা কিছু বলেছিল তা ঠিকই এবং তা হরফে হরফে সত্যি ছিল। তারা এই দরখাস্ত গ্রহণ করতে পরিষ্কার অস্বীকার করল। অন্যদিকে ইয়াহূদীরাও অনুমান করতে পারল যে, তাঁর কথা সত্য ছিল। আর এভাবেই তাদের ইচ্ছা ও সংকল্পে ভাটা পড়ল এবং ঐক্য ভেঙে খান খান হয়ে গেল।

শেষাবধি আল্লাহ তা’আলার মদদ দেখা দিল। কাফির মুশরিকদের ফৌজ ও ইসলাম দুশমনদের বাহিনীর ওপর শীতের রাতে এমন প্রবল শৈত্যপ্রবাহ শুরু হল যে, তাদের তাঁবুগুলো উপড়ে গেল, ডেকচিগুলো উল্টে গেল। এতদুদ্দেশ্যে আবূ

সুফিয়ান বললেন : কুরায়শগণ! এখন আর এখানে অবস্থান করার মত নেই। আমাদের খচ্চর ও ঘোড়াগুলো শেষ হয়ে গেছে। বনু কুরায়জা আমাদের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছে এবং খুবই ভয়ংকর ও কষ্টদায়ক খবর আমরা তাদের সম্পর্কে পেয়েছি। এই প্রবল শৈত্যপ্রবাহ যে কেয়ামত সৃষ্টি করেছে তাও তোমরা দেখতে পাচ্ছ। ডেকচি পর্যন্ত চুলার ওপর টিকছে না। আগুন জ্বালাতে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের কোন অবস্থান ও আশ্রয়স্থলই নিরাপদ ও অক্ষত নেই। এখন এখান থেকে বেরিয়ে পড়। আমি ফিরে যাবার ইচ্ছা করেছি। এই বলে আবু সুফিয়ান তার বাঁধা উটের নিকট গেলেন, তার পিঠে চড়ে বসলেন, পাশে গুঁতা মারলেন। অতঃপর উট খাড়া হতেই তিনি এর রশি খুলে দিলেন।

গাতাফান এই খবর পেতেই যে, কুরায়শরা স্বদেশের পথে রওয়ানা হয়ে গেছে, নিজেরাও যে যার বাড়িঘরের পথ ধরল। রাসুলুল্লাহ (সা) সে সময় নামায পড়ছিলেন। হুযায়ফা ইবনুল-য়ামান (রা) [যাঁকে তিনি সম্মিলিত বাহিনীর ভেতর গোয়েন্দাগিরির দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি রাসুল (সা)-কে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে অবহিত করতে পারেন] এ সময় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি যা কিছু দেখেছিলেন সে সম্পর্কে রাসুল আকরাম (সা)-কে অবহিত করেন।

ভোর হতেই তিনি খন্দক ছেড়ে মদীনা গমন করেন। মুসলমানরাও ফিরে এল এবং যে যার অস্ত্র পরিত্যাগ করল। কুরআন করীম এই ঘটনা সম্পর্কে নিম্নোক্ত বর্ণনা প্রদান করে :

“হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নে’মতের কথা স্মরণ কর, যখন শত্রুবাহিনী তোমাদের নিকটবর্তী হয়েছিল, অতঃপর আমি তাদের বিরুদ্ধে ঝঞ্ঝা বায়ু এবং এমন সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেছিলাম, যাদেরকে তোমরা দেখতে না। তোমরা যা কর আল্লাহ তা দেখেন” (সূরা আহযাব, আয়াত ৯)।

“আল্লাহ পাক কাফিরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোন কল্যাণ

পায়নি। যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহই মু’মিনদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেলেন। আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী” (সূরা আহযাব, ২৫ আয়াত)।

এভাবে যেই মেঘ বিরাট জোরেশোরে উঠেছিল তা গর্জন ও বিদ্যুৎ চমক দেখিয়ে কোনরূপ বর্ষণ ছাড়াই উড়ে যায় এবং মদীনার আকাশ মুক্ত হয়ে যায়। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেন : এ বছরের পর কুরায়শরা আর কখনো তোমাদের ওপর আক্রমণোদ্যত হবে না, বরং তোমরাই তাদের ওপর হামলা করবে।

খন্দক যুদ্ধে মুসলমানদের সর্বাধিক সাতজন শহীদ হন এবং মুশরিকদের চারজন নিহত হয়।