হাজ্জাতু’ল-বিদায় বা বিদায় হজ্ব

হাজ্জাতু’ল-বিদায় বা বিদায় হজ্ব
(যি’ল-হজ্জ ১০ হি/ ফেব্রুয়ারী ৬৩২)

হাজ্জাতু’ল-বিদায় ও এর সময় নির্বাচন

আল্লাহ্র ইচ্ছা পূর্ণ হল। উম্মাহর আত্মাসমূহ মূর্তিপূজার আবর্জনা ও জাহিলিয়াতের আদত-অভ্যাস থেকে পাক-পবিত্র হল এবং আলোকিত হল ঈমানী রৌশনীতে। তাঁদের দিলে প্রেম ও ভালবাসার স্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি হল। আল্লাহ্ ঘর খানায়ে কা’বা মূর্তি থেকে ও মূর্তির পূতি-গন্ধময় আবর্জনা থেকে মুক্ত ও পাক-সাফ হল। মুসলমানদের ভেতর (যারা বহু দিন হয় বায়তুল্লাহ্ হজ্ব ও যিয়ারত করেনি) হজ্বের প্রতি নবতর আগ্রহের সৃষ্টি হয় এবং প্রেম ও ভালবাসার পেয়ালা কেবল পূর্ণই হয়নি বরং উছলে ও উপচে পড়ার উপক্রম হয়। অপরদিকে বিচ্ছিন্ন হবার মুহূর্তও খুব কাছাকাছি ঘনিয়ে আসে। আর অবস্থার দাবিও হল যে, উম্মাহকে বিদায় সালাম জানাতে হবে। তখন আল্লাহ তা‘আলা তদীয় হাবীব নবী করীম (সা)-কে (১০ম হি.) হজ্বের অনুমতি দিলেন। ইসলামে এটি ছিল তাঁর প্রথম হজ্ব।

বিদায় হজ্বের দাওয়াতী, তাবলীগী ও তরবিয়তী গুরুত্ব

তিনি মদীনা থেকে এই উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন যে, তিনি বায়তুল্লাহর হজ্ব করবেন, মুসলমানদের সঙ্গে মিলিত হবেন, তাঁদের দীনের তা’লীম দেবেন, হজ্বের নিয়ম-কানুন শেখাবেন, সত্যের সাক্ষ্য প্রদান করবেন, আপন অপরিহার্য দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন, মুসলমানদের শেষ উপদেশ দেবেন, তাঁদের থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি নেবেন, জাহিলিয়াতের শেষ চিহ্নটুকু মুছে ফেলবেন এবং পায়ের তলে দাফন করবেন। এই হজ্ব হাজারো ওয়াজ-নসীহত, হাজারো দরস ও তা’লীমের স্থলাভিষিক্ত ছিল। এটি ছিল একটি চলতি ও ভ্রাম্যমাণ মাদ্রাসা, একটি সক্রিয় ও গতিশীল মসজিদ এবং একটি চলন্ত ছাউনি যেখানে একজন মূর্খ জাহিল ইল্‌ম্ দ্বারা সজ্জিত হবে, গাফিল তার গাফলত থেকে সজাগ হবে, অলস চঞ্চল হবে, কমযোর শক্তিশালী ও বলবান হবে। রহমতের একটি মেঘ সফরে ও বাড়ি-ঘরে অবস্থানরত সর্বাবস্থায় ও সর্বমুহূর্তে তাঁকে ছায়াদান করত। এ ছিল রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সাহচর্য, তাঁর স্নেহ ও ভালবাসা, তাঁর প্রশিক্ষণ, তত্ত্বাবধান ও নেতৃত্বরূপী রহমতের মেঘ।

হাজ্জাতু’ল-বিদা‘র ঐতিহাসিক রেকর্ড

সাহাবায়ে কিরাম (রা)-এর ন্যায় বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারিগণ এই সফরে নাযুক থেকে নাযুকতর দিক এবং ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ঘটনার এমন একটি রেকর্ড আমাদের জন্য সংরক্ষণ করে গেছেন যার নজীর না রাজা-বাদশাহ কিংবা আমীর-উমারার সফরনামাগুলোতে পাওয়া যাবে, আর না পাওয়া যাবে উলামা ও মাশায়েখদের কাহিনীতে।

বিদায় হজ্বের মোটামুটি পর্যালোচনা

আমরা এই হজ্ব সফরের সংক্ষিপ্তসার এখানে পেশ করছি যাকে ‘হাজ্জাতু’ল-বিদা‘, হাজ্জাতুল-বালাগ ও হাজ্জাতু’ত-তামাম’ নামে স্মরণ করা হয় থাকে। আসলে এগুলোরই সমাহার ছিল এই হজ্ব, বরং এসবের চাইতেও ভিন্ন কিছু। এ সফরে তাঁর সঙ্গে এক লক্ষের বেশি সাহাবী শরীক ছিলেন।

রাসূলুল্লাহ (সা) যেভাবে হজ্ব করলেন

রাসূলুল্লাহ (সা) হজ্বের এরাদা করলেন এবং দশম হিজরীর যি’ল-কা‘দা মাসে লোকদেরকে জানিয়ে দিলেন যে, তিনি এবার হজ্বে যাচ্ছেন। এতদ্শ্রবণ লোকে তাঁর সঙ্গে হজ্ব গমনের আশায় প্রস্তুতি শুরু করে দেয়।

এ খবর মদীনার চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সে সব এলাকার লোকেরাও দলে দলে মদীনায় এসে উপস্থিত হয়। পথিমধ্যে এত বিপুল সংখ্যক লোক কাফেলায় শামিল হয় যে, এর সংখ্যা নিরূপণও কষ্টসাধ্য ব্যাপারে। এ ছিল যেন এক মানব

সমুদ্র! সামনে পেছনে ডানে বামে যতদূর দৃষ্টি চলে শুধু মানুষ আর মানুষ তাঁকে ঘিরে রেখেছে। তিনি মদীনা থেকে ২৫ যি’ল-কা‘দা রোজ শনিবার জোহর বাদ রওয়ানা হন। তিনি প্রথমে জোহরের চার রাক‘আত সালাত আদায় করেন। এর পূর্বে তিনি খুতবা দেন এবং এতে এহরামের ওয়াজিব ও সুন্নাতসমূহের বর্ণনা দেন।

এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে করতে রওয়ানা হন।

বিশাল জনসমুদ্র এই তালবিয়া কখনো সংক্ষেপে, কখনো বা কমিয়ে বাড়িয়ে বলছিল। কিন্তু এতে তিনি কাউকে কিছু বলেননি। তালবিয়া পাঠের সিলসিলা তিনি অব্যাহত রাখেন। অতঃপর তিনি ‘আরাজ নামক স্থানে পৌঁছে ছাউনি ফেলেন। এ সময় তাঁর সওয়ারী ও হযরত আবূ বকর (রা)-এর সওয়ারী একই ছিল।

অতঃপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং আল-আবওয়া নামক স্থানে পৌঁছলেন। সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে উসফান ও সারিফ উপত্যকায় পৌঁছান। অতঃপর সেখান থেকে যাত্রা করে “যী-তুওয়া” নামক স্থানে মনযিল করলেন এবং শনিবার রাত সেখানে অতিবাহিত করেন। সেদিন ছিল যি’ল-হজ্জ মাসের ৪ তারিখ। ফজরের সালাত তিনি সেখানেই আদায় করেন। ঐদিনই তিনি গোসলও করেন এবং মক্কাভিমুখে রওয়ানা হন। তিনি দিনের বেলা উচ্চভূমি দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করেন। সেখান দিয়ে তিনি হারাম শরীফে প্রবেশ করেন। এ সময় ছিল চাশতের ওয়াক্ত। বায়তুল্লাহ্ ওপর চোখ পড়তেই তিনি বলেনঃ

“হে আল্লাহ্! তোমার এই ঘরের সম্মান ও মর্যাদা, তা’জীম ও তাকরীম এবং ভীতিকর প্রভাব বৃদ্ধি করে দাও।” দস্ত মুবারক বুলন্দ করতেন, তাকবীর বলতেন এবং ইরশাদ করতেন :

“হে আল্লাহ্! তুমি শান্তিময় শান্তিপ্রদাতা আর তোমার পক্ষ থেকেই শান্তি এসে থাকে। হে আমাদের রব! আমাদের শান্তির সাথে বাঁচিয়ে রাখ।”

তিনি যখন হারাম শরীফে প্রবেশ করলেন তখন সর্বপ্রথম কা’বা শরীফের দিকে

ফিরলেন। হাজরে আসওয়াদ সামনাসামনি হতেই তিনি কোনরূপ বাধা-প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তাতে চুমু দিলেন। এরপর তাওয়াফের উদ্দেশ্য ডান দিকে ফিরলেন। এ সময় বায়তুল্লাহ তাঁর বাম দিকে ছিল। এই তাওয়াফের প্রথম তিন চক্রে তিনি রাম্ল করেন।

তিনি দ্রুত গতিতে চলছিলেন। ছোট ছোট কদম ফেলে চলছিলেন। চাদর এক কাঁধের ওপর ফেলে রেখেছিলেন, দ্বিতীয় কাঁধ ছিল খালি। তিনি যখন হাজরে আসওয়াদ অতিক্রম করছিলেন তখন সেদিকে ইশারা করে আপন ছড়ির সাহায্যে ইস্তিলাম করছিলেন। তাওয়াফ শেষে হতেই তিনি মাকামে ইবরাহীমের পেছনে গেলেন এবং এই আয়াত তেলাওয়াত করলেন : وَاتَّخِذُوْا مِنْ مَّقَامِ إِبْرٰهِيْمَ مُصَلًّى এরপর তিনি এখানে দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। সালাত সমাপনান্তে তিনি পুনরায় হাজরে আসওয়াদের নিকট গমন করলেন এবং এতে চুমু খেলেন। এরপর সাফা পর্বতের দিকে তাঁর সম্মুখস্থ দরজা হয়ে চললেন। কাছাকাছি হতেই তিনি বললেন :

“সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আমি সেখান থেকে শুরু করছি যদ্দ্বারা আল্লাহ শুরু করেছেন।”

এরপর তিনি এতে আরোহণ করলেন। এমন কি ততদূর অবধি আরোহণ করলেন যেখান থেকে বায়তুল্লাহ তাঁর দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। অতঃপর তিনি কিবলার দিকে ফিরে আল্লাহ তা‘আলার ওয়াহদানিয়াত ও তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দিলেনঃ

“আল্লাহ ভিন্ন কোন মা’বূদ নেই; তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁর আর সকল হাম্‌দ তথা প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সকল বিষয়ের ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ভিন্ন কোন মা’বূদ নেই, তিনি এক; তিনি তাঁর ওয়াদা পালন করেছেন, আপন বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং সমস্ত দল ও উপদলকে একা পর্যুদস্ত করেছেন।”

মক্কায় তিনি ৪/৫ দিন (শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বুধবার এই কয়দিন) অবস্থান

করেন। বৃহস্পতিবার বেলা উঠতেই তিনি সমস্ত মুসলমানকে নিয়ে মিনায় গমন করেন। জোহর ও আসর সালাত তিনি এখানেই আদায় করেন এবং এখানেই রাত্রি যাপন করেন। এদিন ছিল বৃহস্পতিবার দিবাগত জুমু‘আর রাত্রি। সূর্য উঠতেই তিনি আরাফাতের দিকে অগ্রসর হলেন। তিনি দেখতে পেলেন যে, নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু স্থাপন করা হয়েছে। অনন্তর তিনি এখানেই অবতরণ করলেন। বেলা ঢলে পড়তেই তিনি উটনী “কাসওয়া”-কে প্রস্তুত করার হুকুম দিলেন। অতঃপর সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে ‘আরাফাত প্রান্তরের মাঝখানে মনযিল করেন এবং আপন সওয়ারী পৃষ্ঠে থেকেই তিনি এক ওজস্বিনী ভাষণ দেন। এ ভাষণে তিনি ইসলামের বুনিয়াদসমূহ খোলাখুলিভাবে তুলে ধরেন এবং শিরক ও মূর্খতার বুনিয়াদ ধ্বংস করে দেন। এই ভাষণে তিনি সেই সব হারাম বস্তুকে হারাম বলে ঘোষণা করেন যেগুলো হারাম হওয়ার ব্যাপারে দুনিয়ার তাবত ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠী ঐকমত্য পোষণ করে। আর সেগুলো হল: অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, ধন-সম্পদ ছিনতাই করা, নারীর সতীত্ব-সম্ভ্রম নষ্ট করা। জাহিলিয়াতের তাবৎ বিষয়াদি ও প্রচলিত কাজগুলো আপন কদমতলে দাফন করেন। জাহিলিয়াত আমলের সুদ তিনি সমূলে খতম করেন এবং একে বিলকুল বাতিল বলে অভিহিত করেন। তিনি মহিলাদের সঙ্গে উত্তম আচার-আচরণের উপদেশ দেন এবং তাদের যে সমস্ত অধিকার রয়েছে, অধিকন্তু তাদের জিম্মায় যেসব অধিকার রয়েছে, তার বিশ্লেষণ করেন এবং বলেন যে, নিয়ম মোতাবেক আহার, পোশাক ও খোরপোশ তাদের অধিকার।

উম্মতকে তিনি আল্লাহর কিতাবের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে থাকার ওসিয়ত করেন এবং বলেন: যতদিন তোমরা এর সঙ্গে নিজেদের ভালোভাবে আঁকড়ে রাখবে ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। তিনি তাদেরকে সতর্ক করেন যে, তাদের কাল কিয়ামত দিবসে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং তাদেরকে এর জবাব দিতে হবে। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলকে জিজ্ঞেস করেন: তখন তাঁর সম্পর্কে কি বলবে এবং কি সাক্ষ্য দেবে? সকলেই সমস্বরে বললেন: আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি পয়গামে হক এতটুকু কমবেশী না করে পৌঁছে দিয়েছেন, আপন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কল্যাণ কামনার হকও আদায় করেছেন। এতদশ্রবণে তিনি আসমানের দিকে আঙুল ওঠালেন এবং তিনবার আল্লাহ্ তা’আলাকে এ বিষয়ে সাক্ষী বানালেন এবং তাদের এও হুকুম দিলেন যে, যারা এখানে উপস্থিত আছে তারা অনুপস্থিত লোকদেরকে এ কথাগুলো যেন পৌঁছে দেয়।

খুতবা শেষ হতেই বিলাল (রা)-কে আযান দেবার হুকুম দিলেন। তিনি আযান

দিলেন। এরপর তিনি জোহরের সালাত দুই রাক‘আত আদায় করলেন। ঠিক সেভাবে আসরেরও দুই রাক‘আতই পড়লেন। দিনটা ছিল জুমু‘আর দিন।

সালাত শেষ হতেই সওয়ারীতে আরোহন করলেন এবং সেই উকূফের জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালেন যেখানে তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে দু‘আ করেছিলেন (জায়গাটি আজ অবধি আরাফাতে বিখ্যাত ও চিহ্নিত)। এখানে এসে তিনি তাঁর উটের ওপর বসলেন এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত দু‘আ ও মুনাজাত, শাহানশাহ রাজাধিরাজের সমীপে কান্নাকাটি, আপন দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের বিনীত প্রকাশের মাঝেই মশগুল থাকলেন। দু‘আরত অবস্থায় তিনি তাঁর মুবারক হাত বুক পর্যন্ত তুলতেন যেন কোন ভিক্ষুক-প্রার্থী ও অসহায় মিসকীন এক টুকরো রুটির যাচ্ঞা করছে। দু‘আ ছিল এই :

“হে আল্লাহ! তুমি আমার কথা শুনে থাক এবং আমার জায়গাও তুমি দেখ। আমার গোপন ও প্রকাশ্য সব তুমি জান। তোমার কাছে আমার কোন কিছু প্রচ্ছন্ন বা লুক্কায়িত নেই, থাকতে পারে না। আমি বিপদগ্রস্ত, মুখাপেক্ষী, ফরিযাদী, আশ্রয়প্রার্থী, অসহায় আপন গুনাহর স্বীকৃতি প্রদান করছি, মেনে নিচ্ছি আমার সকল অপরাধ। তোমার সামনে অসহায় ভিক্ষুকের মত হাত পাতছি আর কাতরভাবে চাইছি যেভাবে অবহেলিত ও লাঞ্ছিত গোনাহগার কাতরভাবে চাইতে থাকে। তোমার কাছে চাইছি যেভাবে চাইতে থাকে ভীত-শংকিত বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি, তেমনিভাবে চাইছি যেমন অবনত শিরে চায় কেউ। আর তার চোখ দিয়ে ঝরতে থাকে অশ্রুরাশি আর সমগ্র দেহমন দিয়ে যে তোমার দরবারে কাতর প্রার্থনা জানায় আর তোমার সামনে নাক ঘষতে থাকে। প্রভু হে! তোমার সকাশে দু‘আ কামনায় আমাকে ব্যর্থকাম কর না এবং আমার অনুকূলে তুমি বড়ই মেহেরবান ও দয়ালু হিসাবে ধরা দাও। ওহে সর্বোত্তম প্রার্থনা পূরণকারী ও সর্বোত্তম সর্বপ্রদাতা প্রভু!”

এ সময় এই আয়াত নাযিল হয় : (সূরা মাইদা-৩)

সূর্যাস্তের পর তিনি আরাফাত থেকে রওয়ানা হলেন এবং উসামা ইবন যায়দ(রা)-কে নিজের পেছনে বসিয়ে নিলেন। তিনি দৃঢ় প্রশান্ত চিত্তে ও ভাবগম্ভীর মর্যাদা সহকারে সম্মুখে অগ্রসর হলেন। উটনীর রশি তিনি এভাবে গুছিয়ে নিয়েছিলেন যে, মনে হচ্ছিল তাঁর মস্তক মুবারক বুঝি উটনীর কুঁজ স্পর্শ করবে। তিনি বলে চলছিলেন, লোক সকল! নিরাপদ প্রশান্তির সঙ্গে চল। গোটা রাস্তা তিনি তালবিয়া পাঠ করেছিলেন যতক্ষণ না তিনি মুযদালিফা গিয়ে পৌঁছেন— এ ধারা অব্যাহত থাকে। মুযদালিফায় পৌঁছেই তিনি হযরত বিলাল (রা)-কে আযান দিতে বলেন। আযান দেওয়া হল। তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং উট বসানো ও সামান নামানোর আগে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। লোকেরা সামান নামালে তিনি সালাতু‘ল-এশাও আদায় করলেন, এরপর তিনি আরাম করবার জন্য শুয়ে পড়লেন এবং ফজর অবধি ঘুমালেন।

আওয়াল ওয়াকতে তিনি সালাতুল-ফজর আদায় করলেন। এরপর তিনি সওয়ারীর পৃষ্ঠে আরোহণ করলেন এবং মাশ‘আরুল-হারাম-এ আসেন ও কেবলা-মুখী হয়ে দু‘আ ও মিনতিভরা কান্না, তাকবীর-তাহলীল ও যিকর-এ মশগুল হন। পূর্ব আকাশ ফর্সা হয়ে যাওয়া অবধি তিনি এতে মশগুল রইলেন। এ ছিল সূর্যোদয়ের পূর্বের অবস্থা। অতঃপর তিনি মুযদালিফা থেকে রওয়ানা হন। ফযল ইবন আব্বাস (রা) এ সময় তাঁর উটনী পৃষ্ঠে তাঁর পশ্চাতে উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বরাবরের মতোই তালবিয়া পাঠ করছিলেন। তিনি ইবন আব্বাস (রা)-কে নির্দেশ দিলেন জামরায়ে ‘আকাবায় পাথর নিক্ষেপের জন্য সাতটি পাথর কুড়িয়ে নিতে। ওয়াদীয়ে মুহাসসারের মাঝামাঝি পৌঁছতেই তিনি তাঁর উটনীর গতি বাড়িয়ে দিলেন এবং তা আরও দ্রুত করলেন। কেননা এটি সেই জায়গা যেখানে হস্তিবাহিনীর ওপর আল্লাহর আযাব নাযিল হয়েছিল। এভাবে তিনি মিনায় পৌঁছলেন এবং সেখান থেকে জামরাতুল-আকাবায় তশরীফ নেন এবং সওয়ারীতে আরোহণপূর্বক সূর্যোদয়ের পর শয়তানের উদ্দেশ্যে পাথর নিক্ষেপ করেন এবং তালবিয়া পাঠ বন্ধ করেন।

এরপর মিনায় প্রত্যাবর্তন করেন। এখানে তিনি একটি বাগ্মিতাপূর্ণ খুতবা দান করেন। এতে তিনি কুরবানীর দিনের সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট এই দিনটির যে বিশেষ মর্যাদা রয়েছে তা

বর্ণনা করেন। অপরাপর সমস্ত শহরের ওপর মক্কার যে শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য রয়েছে তার উল্লেখ করেন এবং যেই আল্লাহ্‌র কিতাব (কুরআনুল কারীম)-এর আলোকে তাদের নেতৃত্ব দেবে তাঁর অনুসরণ ও আনুগত্য তাদের ওপর ওয়াজিব বলে অভিহিত করেন। এরপর তিনি উপস্থিত লোকদেরকে তাঁর থেকে হজ্ব ও কুরবানীর মসলা-মাসায়েল ও নিয়ম-কানুন জেনে নিতে বলেন। তিনি লোকদেরকে এও বলেনঃ দেখ, আমার পর তোমরা কাফিরদের মত হয়ে যেও না, তাদের মত পরস্পরের গলা কাটতে লেগে যেও না। তিনি আরও নির্দেশ দেন, কথাগুলো অপর লোকদের পৌঁছে দেবে। খুতবায় তিনি এও ইরশাদ করেন :

“আপন প্রভু প্রতিপালকের ইবাদত কর, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় কর, (রমযান) মাসের সিয়াম পালন কর, শাসন কর্তৃত্বে সমাসীন ব্যক্তির নির্দেশ পালন কর, আপন প্রভু প্রতিপালকের জান্নাতে প্রবেশ করবে।”

সে সময় তিনি লোকদের সামনে বিদায়ী কথাও বলেন এবং এজন্যই এই হজ্জের নাম হয় “হাজ্জাতুল-বিদা” বা বিদায় হজ্জ।

অতঃপর তিনি মিনায় কুরবানীর স্থলে পৌঁছেন এবং তেষট্টিটি উট স্বহস্তে কুরবানী করেন। যতগুলো উট তিনি কুরবানী দিয়েছিলেন হিসাব করে দেখা যায় তত বছরই তিনি হায়াত পেয়েছিলেন। এরপর তিনি থামেন এবং হযরত আলী (রা)-কে বলেন ১০০ পূরণ হওয়ার যতগুলো বাকী আছে তা পূরণ করতে। মোটের ওপর কুরবানী সম্পূর্ণ হতেই ক্ষৌরকার ডেকে পাঠান, মস্তক মুণ্ডন করেন এবং মুণ্ডিত কেশ মুবারক নিকটস্থ লোকদের মধ্যে বণ্টন করে দেন। এরপর তিনি মক্কায় রওয়ানা হন। তাওয়াফ-ই ইফাদা আদায় করেন যাকে তাওয়াফ-ই যিয়ারাতেও বলা হত। অতঃপর তিনি যমযম কূপের নিকট গমন করেন এবং দাঁড়িয়ে পানি পান করেন। এরপর ঐদিনই মিনায় ফিরে আসেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করেন। দ্বিতীয় (পর) দিন সূর্যাস্তের তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। সূর্যাস্তের সময় হতেই তিনি সওয়ারী থেকে অবতরণ করেন, পাথর নিক্ষেপের জন্য গমন করেন এবং জামরা-ই উলা থেকে পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন, এরপর জামরা-ই উস্তা ও অতঃপর জামরায়ে আকাবায় সমাপ্ত করেন। মিনায় তিনি দুইটি খুতবা দেন। তন্মধ্যে একটি দেন কুরবানীর দিন যার কথা আমরা একটু আগেই উল্লেখ করেছি, দ্বিতীয়টি কুরবানীর পরদিন।

এখানে তিনি যাত্রা বিরতি করেন এবং আয়্যামু’ত-তাশরীক-এর তিন দিনই পাথর নিক্ষেপ করেন। অতঃপর তিনি মক্কা যাত্রা করেন, শেষ রাত্রে বিদায়ী তাওয়াফ করেন, লোকজনকে তৈরি হওয়ার নির্দেশ দেন এবং মদীনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

পথে গাদীর-ই খুম নামক স্থানে পৌঁছে তিনি একটি খুতবা দেন এবং হযরত আলী (রা)-এর মর্যাদা ও ফযীলত বর্ণনা করেন। এ সময় তিনি বলেন :

“আমি যার প্রিয়, আলীও তার প্রিয় হওয়া উচিত। হে আল্লাহ! যে আলীকে ভালবাসবে তুমিও তাকে ভালবাস আর যে তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করবে তুমিও তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণ কর।”

তিনি যুল-হুলায়ফা এসে রাত্রি যাপন করেন। সওয়াদ-ই মদীনার প্রতি দৃষ্টিপাত হতেই তিনি তিনবার তাকবীর বলেন এবং পাঠ করেন :

“আল্লাহ ব্যতিরেকে কোন ইলাহ নেই; তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই; তাঁরই নিমিত্ত সাম্রাজ্য এবং তাঁরই নিমিত্ত হাম্দ বা প্রশংসা আর তিনি সকল কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”

তিনি আরও পাঠ করেন :

“প্রত্যাবর্তন করছি তওবারত, অনুগত, সিজদারত, আমাদের প্রভু প্রতিপালকের দরবারে প্রশংসারত অবস্থায়। আল্লাহ্ তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত

করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন, সমস্ত দল-উপদলকে এককভাবে পরাজিত করেছেন।”

তিনি দিনের বেলায় মদীনা তায়্যিবায় প্রবেশ করেন।

বিদায় হজ্জে রসূলুল্লাহ (সা)-র খুতবা

এখানে আমরা রসূলুল্লাহ (সা)-এর আরাফাত ময়দানে প্রদত্ত খুতবার পূর্ণ অংশ পেশ করছি, ঠিক তেমনি আয়্যামু’ত-তাশরীকের মধ্যবর্তীতে তৎকর্তৃক প্রদত্ত খুতবাও আমরা নিম্নে উদ্ধৃত করছি। কেননা এই দুইটি অমূল্য খুতবা সীমাহীন গুরুত্ববহ উপদেশে পরিপূর্ণ ও বহুল ফলপ্রসূ।

আরাফার খুতবা

“তোমাদের রক্ত এবং তোমাদের ধন-সম্পদ তেমনি পবিত্র ও সম্মানিত যেমন পবিত্র ও সম্মানিত তোমাদের এই দিন, তোমাদের এই মাস ও তোমাদের এই শহর। মনে রেখ, জাহিলী যুগের সকল কিছুই আমার পদতলে পিষ্ট করা হল এবং জাহিলী যুগে অনুষ্ঠিত সকল রক্তপাত (খুনের বদলে খুন, প্রতিশোধাত্মক হত্যাকাণ্ড)

আজ নিষিদ্ধ করা হল এবং সর্বপ্রথম আমি (আমার বংশের) ইবন রবী‘আ ইবন হারিছের রক্তের বদলা বাতিল ঘোষণা করছি, যে বনী সা‘দ-এ লালিত-পালিত হয়েছিল এবং হুযায়ল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। জাহিলী যুগের সকল সুদ বাতিল ঘোষিত হল এবং সর্বপ্রথম আমি (আমার বংশের) আব্বাস ইবন ‘আবদিল-মুত্তালিবের সুদ বাতিল ঘোষণা করছি। কেননা এর সবটাই বাতিল। নারীদের ব্যাপারে আল্লাহ্ কে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহ্ র আমানত হিসাবে গ্রহণ করেছ এবং তাদের সতীত্ব-সম্ভ্রমকে আল্লাহ্ র কালেমার বিনিময়ে তোমাদের জন্য হালাল করেছ। আর তোমাদের ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল, কোন লোককে যেন তোমাদের শয্যাপাশে না আসতে দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। তারা যদি তা করে তবে তোমরা তাদেরকে প্রহার করবে, তবে এমনভাবে যেন তার চিহ্ন বাইরে ফুটে না ওঠে। আর তাদের ব্যাপারে তোমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হল, তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের খোরপোশের ব্যবস্থা করবে। আর আমি তোমাদের কাছে একটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যদি তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরে থাক তবে কখনো পথভ্রষ্ট হবে না : আর তাহল আল্লাহ্ র কিতাব। তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে আল্লাহ্ র দরবারে জিজ্ঞাসা করা হবে সেদিন তোমরা তার কি জবাব দেবে? সাহাবায়ে কিরাম (রা) সমস্বরে উত্তর দিলেন : আমরা বলব, আপনি আল্লাহ্ র পয়গাম আমাদেরকে পৌঁছে দিয়েছেন, আপন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং উম্মাহকে উপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি আসমানের দিকে শাহাদাত অঙ্গুলি উঁচিয়ে তিনবার বললেন : হে আল্লাহ্ ! সাক্ষী থাক।“

আইয়াম ই তাশরীক-এর মধ্যবর্তীতে যে খুতবা দিয়েছিলেন তার বক্তব্য নিম্নরূপ :

“লোক সকল! তোমরা কি জান কোন মাস, কোন দিন এবং কোন শহরে তোমরা আছ? জবাবে লোকেরা বলল : সম্মানিত দিনে, সম্মানিত শহরে এবং সম্মানিত মাসে আমরা আছি। তিনি বললেন : তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ সম্মানিত যেমন পবিত্র ও সম্মানিত আজকের এই দিন, এই মাস ও এই শহর। অতঃপর বললেন : আমার কথা শোন যাতে তোমরা সহীহ-শুদ্ধ জীবন যাপন করতে পার। সাবধান! তোমরা জুলুম করবে না। সাবধান! তোমরা জুলুম করবে না। খবরদার! তোমরা জুলুম করবে না। আর কোন মুসলমানের ধন-সম্পত্তি থেকে তার সম্মতি ব্যতিরেকে কোন কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়। সর্বপ্রকার রক্ত, সব ধরনের ধন-সম্পদ, যা জাহিলী যুগ থেকে চলে আসছে-তা কিয়ামত অবধি বাতিল ঘোষিত হল। আর সর্বপ্রথম যে রক্ত (প্রতিশোধ হিসাবে)

বাতিল ঘোষিত হচ্ছে তা রবী‘আ ইবনুল-হারিছ ইবন আবদিল-মুত্তালিবের রক্ত, যে বনী লায়ছ-এ প্রতিপালিত হয়েছিল এবং যাকে হুযায়ল (গোত্রের) লোকেরা হত্যা করেছিল। জাহিলী যুগের সর্বপ্রকার সুদ রহিত করা হল এবং আল্লাহ্ তা‘আলার ফয়সালা এই যে, সর্বপ্রথম যেই সুদ রহিত করা হবে তা হবে আব্বাস ইবন ‘আবদুল-মুত্তালিবের সুদ। তবে তোমরা তোমাদের মূলধন ফিরে পাবে। এ ব্যাপারে তোমরা নিজেরা অত্যাচারিত হবে না আর তোমরাও কারো ওপর জুলুম করবে না। আদিতে তিনি যখন আসমান-যমীন সৃষ্টি করেছিলেন, কালের আবর্তন-বিবর্তনে আজ সেখানেই এসে পৌঁছেছে। এরপর তিনি তেলাওয়াত করলেন :

“আল্লাহ্‌র নিকট গণনার মাস হিসাবে বার মাস সেদিন থেকে যেদিন তিনি আসমান ও যমীন সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সময় হিসেবে; এর মধ্যে চারটি মাস পরম সম্মানিত। আর এটাই আল্লাহ্‌র সুস্পষ্ট দীন বা জীবন-বিধান। অতএব, তোমরা এই মাসগুলোতে (অন্যায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত হয়ে) নিজেদের ওপর জুলুম করো না।”

“আর হ্যাঁ, আমার পর আমার অবর্তমানে তোমরা পরস্পর মারামারি করে কাফির হয়ে যেও না। মনে রেখ! শয়তান এ বিষয়ে নিরাশ হয়ে গেছে যে, যারা সালাত আদায় করে তারা কোনদিন তার পূজারী হবে। তবে হ্যাঁ, সে তোমাদের বিভিন্ন রকমের চক্রান্তে উস্কানি দেবে। নারীদের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে। কেননা তারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে। তারা নিজেদের ব্যাপারে স্বাধীনভাবে কিছু করতে সক্ষম নয়। তোমাদের ওপর তাদের অধিকার রয়েছে এবং তাদের ওপরও তোমাদের অধিকার রয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের অধিকার হল, তারা আপন স্বামী ছাড়া তাদের শয্যায় কাউকে প্রবেশাধিকার দেবে না এবং

তোমাদের অপছন্দীয় কাউকে তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। যদি তাদের থেকে অবাধ্যতার আশংকা কর তাহলে তাদেরকে উপদেশ দাও, বোঝাও এবং তাদেরকে শয্যায় পরিত্যাগ কর, পৃথক করে দাও এবং তাদের হালকাভাবে প্রহার কর; আর তাদের ন্যায়সঙ্গতভাবে খোরপোশ প্রদান কর। এ তাদের প্রাপ্য অধিকার। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহ্ র নামে তাঁর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহ্ র নামে তাদের সতীত্ব-সম্পদ নিজেদের জন্য বৈধ করেছ। মনে রেখ, কারো কাছে অপর কারো র আমানত রক্ষিত থাকলে সে যেন আমানতকারীর নিকট তা প্রত্যর্পণ করে। এতদূর বলার পর তিনি আপন হস্তদ্বয় প্রসারিত করলেন এবং বললেন : আমি কি তোমাদেরকে পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি? আমি কি পয়গাম পৌঁছে দিয়েছি? অতঃপর যারা এখানে উপস্থিত আছ তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে তা পৌঁছে দেয়। কেননা এমন অনেক অনুপস্থিত লোক আছে যারা উপস্থিত শ্রোতাদের তুলনায় অধিকতর ভাগ্যবান হয়ে থাকে।”