হুনায়ন যুদ্ধ

হুনায়ন যুদ্ধ
(শাওয়াল ৮ হিজরী)

ইসলামের উজ্জ্বল প্রদীপকে ফূৎকারে নিভিয়ে দেবার অপচেষ্টা

মক্কা বিজয় সম্পূর্ণ হল। লোকেরা দলে দলে ব্যাপক হারে ও বিপুল সংখ্যায় ইসলাম গ্রহণ করতে শুরু করেছে। এমনি সময় পার্শ্ববর্তী লোকেরা ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে তাদের তূণীরের শেষ তীরটিও নিক্ষেপ করল। মূলতঃ এটি ছিল রাসুলুল্লাহ (সা)-এর মোকাবিলায় এবং আরব উপদ্বীপে ইসলামের বিস্তার ও প্রচার প্রসার রোধের একটি হতাশ প্রয়াসমাত্র।

হাওয়াযিন গোত্রের সমাবেশ

হাওয়াযিন গোত্রকে কুরায়শদের পর দ্বিতীয় শক্তি হিসেবে গণ্য করা হত। তাদের ও কুরায়শদের মধ্যে শত্রুতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছিল আগে থেকেই। অনন্তর কুরায়শরা যখন ইসলামের এই উঠতি শক্তির সামনে অস্ত্র সমর্পণ করল এবং নিজেদের পরাজয় স্বীকার করে নিল তখন হাওয়াযিন গোত্র আত্মসমর্পণে বেঁকে বসল, ইসলামকে গড়েমূলে উৎখাত করতে ধনুর্ভঙ্গ পণ করে বসল এবং একে তারা প্রেরণা ও আবেগের উৎস হিসাবে গ্রহণ করল। তারা ভাবল যে, এতে তাদের খ্যাতি সারা আরবে ছড়িয়ে পড়বে এবং লোক বলবে যে, বাপের বেটা বটে হাওয়াযিন! যে কাজ কুরায়শরা করতে পারেনি তা তারা করে দেখাল।

কবিলার সর্দার মালিক ইবন ‘আওফ আন-নাসরী যুদ্ধ ঘোষণা করে। যুদ্ধ ঘোষিত হতেই স্বয়ং তার নিজেরই হাওয়াযিন গোত্রের সঙ্গে গোটা ছাকীফ গোত্র, নাসর ও জুশাম কবিলা এবং সা’দ ইবন বকর তার ডাকে সাড়া দেয়। অবশ্য কা’ব ও কিলাব গোত্র তার ডাকে সাড়া দেয়নি। সবাই মিলে কাতারবদ্ধ হয়ে মুসলমানদের পানে অগ্রাভিযানের প্রোগ্রাম তৈরি করে এবং ধন-সম্পদ, নারী ও শিশুদেরকে সেনাবাহিনীর সঙ্গেই রেখে দেয় যাতে তারা তাদের পরিবার-পরিজনের সম্মান ও ধন-সম্পদের হেফাজতের আশায় সাহসিকতার সঙ্গে মরিয়া হয়ে লড়াই করে এবং কেউ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালাবার কথা চিন্তাও না করে।

এই যুদ্ধে দুরায়দ ইবন আস-সাম্মাহও শরীক ছিলেন। দুরায়দ ছিলেন একজন

প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি। অধিকন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তার মতামতকে নির্ভুল মনে করা হত। তাদের এই বাহিনী আওতাস নামক উপত্যকায় অবতরণ করে। তাদের উটের ডাক, গাধা ও খচ্চরের চীৎকার, বকরীর প্যাঁ-প্যাঁ ও শিশুদের কান্নাকাটি বাহিনীর ভেতর এক হৈ চৈ পূর্ণ অবস্থা সৃষ্টি করে রেখেছিল। মালিক ইবন ‘আওফ তার সৈন্যদেরকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিল যে, মুসলমানদেরকে দেখা মাত্রই খাপ ভেঙে উন্মুক্ত তলোয়ার হাতে একযোগে পূর্ণ শক্তিতে হামলা করবে।

অপরদিকে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে ছিল মক্কার দু’হাজার মুসলমান যাঁদের অধিকাংশই মাত্র কিছুদিন আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। কিছু লোক এমনও ছিল যাদের তখনও ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়নি। এছাড়া সাহাবায়ে কিরাম (রা) ও ইসলামের জন্য উৎসর্গীকৃতপ্রাণ ১০ হাজার ফৌজও তাঁর সঙ্গে ছিল যাঁরা মদীনা থেকে তাঁর সঙ্গে বেরিয়েছিলেন। ফলে মুসলিম বাহিনীর সদস্যসংখ্যা ইতোপূর্বে সংঘটিত যে কোন যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি ছিল। ফলে কিছু কিছু মুসলমান (নিজেদের এই অভূতপূর্ব বিপুল সংখ্যা শক্তিতে বিভ্রান্ত ও গর্বিত হয়ে) বলতে লাগলেন: আজ আর আমরা সংখ্যায় কম নই বিধায় আমাদের হারবার কোন আশঙ্কা নেই। বিজয় তো আমাদের হাতের মুঠোয়।

এ সময় তিনি (রাসুলুল্লাহ সা) সাফওয়ান ইবন উমাইয়ার নিকট থেকে, যে তখন পর্যন্ত কাফির ছিল, কিছু লৌহবর্মসহ অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র ধার নেন এবং হাওয়াযিন গোত্রের সঙ্গে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

মূর্তিপূজা আর কখনো নয়

আল্লাহ্ রাসূল (সা)-এর সঙ্গে এমন কিছু লোকও এই বাহিনীতে ছিলেন যারা জাহিলী জীবন পরিত্যাগ পূর্বক সদ্যই ইসলামে প্রবেশ করেছিলেন। ঘটনা ছিল এই যে, আরবের কিছু কিছু গোত্রের “যাতে আনওয়াত” নামক একটি বিরাট ও সবুজ শ্যামল বৃক্ষের সঙ্গে ভক্তিযুক্ত সম্পর্ক ছিল। এতে তারা তাদের হাতিয়ার টাঙিয়ে রাখত, এর নিচে তারা পশু বলি দিত এবং একদিন এর ছায়ায় অবস্থান করত। অনন্তর সফরকালে এই বৃক্ষের প্রতি দৃষ্টিপাত হতেই জাহিলী যুগের সেই সব প্রাচীন রসম-রেওয়াজ ও কথাবার্তা স্মরণ করে এবং তাদের যিয়ারতগাহ দৃষ্টে তাদের পুরনো আবেগ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তারা অসঙ্কোচে খোলাখুলি

বলতে লাগল: ইয়া রাসূলাল্লাহ! ওদের যেমন “যাত আনওয়াত” ছিল, তেমনি আমাদেরকেও একটি ভক্তি অর্ঘ পেশের কেন্দ্র নির্ধারণ করে দিন। রাসূলুল্লাহ (সা) একথা শুনে বললেন: আল্লাহু আকবার! তাঁর কসম যাঁর কবজায় মুহাম্মাদের জীবন। তোমরা আমার নিকট এমন এক জিনিসের দাবি জানিয়েছ যেমনটি মূসা (আ)-এর কওম ইয়াহূদীরা তাদের নবী মূসা (আ)-এর কাছে জানিয়েছিল। তারা বলেছিল: ٱجْعَل لَّنَآ إِلَـٰهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ ۚ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ “আপনি আমাদের জন্য একজন উপাস্য (দেবতা) বানিয়ে দিন যেমন তাদের বহু উপাস্য দেবতা রয়েছে। (জওয়াবে) তিনি বললেন: আরে! তোমরা দেখছি মূর্খের মত কথা বলনেওয়ালা সম্প্রদায়” (সূরা আ’রাফ, ১৩৮ আয়াত)। এরপর আল্লাহর রাসূল (সা) বললেন: তোমরা নিশ্চিতভাবেই তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের এক একটি কথা ও তরীকার অনুসরণ করবে।

হুনায়ন উপত্যকায়

শাওয়াল মাসের ১০ তারিখে (৮ম হি.) মুসলমানরা হুনায়ন উপত্যকায় গিয়ে পৌঁছলেন। তাঁরা ভোরের অস্পষ্ট কুয়াশার ভেতর উৎরাইয়ের দিকে অবতরণ করতে শুরু করলেন। হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা তাঁদের আগে ভাগেই উক্ত উপত্যকায় পৌঁছে গিয়েছিল এবং এর ঘাঁটি, সংকীর্ণ গিরিপথ ও অপ্রশস্ত খাদে ঘাত ও মোর্চা বানিয়ে নিয়েছিল। মুসলমানদের চোখে দেখা মাত্রই তারা তাদেরকে তীরের লক্ষ্যে পরিণত করল এবং তলোয়ার কোষমুক্ত করল। অতঃপর তারা একযোগে পূর্ণ শক্তিতে মুসলমানদের ওপর হামলা করল। তারা ছিল স্বীকৃত তীরন্দায।

অধিকাংশ মুসলমানই এই অতর্কিত ও আকস্মিক হামলায় ঘাবড়ে গিয়ে এমনভাবে পেছনে ফিরলেন যে, কেউ কারো দিকে একবার তাকিয়েও দেখেননি কে কোথায়। বিপজ্জনক ও চূড়ান্ত একটি মুহূর্ত। আশঙ্কা হচ্ছিল যুদ্ধ ক্ষেত্র বুঝি মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায় এবং তা বুঝি মুসলমানদের বিরুদ্ধে গিয়ে দাঁড়ায়। এরপর তা সামাল দেওয়া এবং নিজেদের কেন্দ্র কায়েম রাখারও অবকাশ না থাকে। এখানে যা কিছু হচ্ছিল তার উহুদ যুদ্ধের সঙ্গে সাদৃশ্য ছিল অনেকটাই, যখন খবর রটে গিয়েছিল যে, রাসুলুল্লাহ (সা) শহীদ হয়ে গিয়েছেন এবং তখন মুসলমানদের পদস্খলন ঘটেছিল।

শত্রুদের আনন্দোল্লাস আর দুর্বল ঈমানদারদের পদস্খলন

মক্কার দাম্ভিক লোকেরা, যারা রাসুলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে এই অভিযানে বের হয়েছিল, যাদের অন্তরের গহীনতম প্রদেশ ঈমান তখনও পুরোপুরি প্রবেশ করেনি, পরাজয়ের এই দৃশ্য দেখে নানা রকম কথার তুড়ি ছোটাল। তাদের অন্তরের গভীরে লুক্কায়িত এত দিনের ঈর্ষা ও দ্বেষ সেই মুহূর্তে সব উগরে দিল। তারা বলল: পালিয়ে সমুদ্রের কূলে না পৌঁছা অবধি তারা থামবে না। কেউ কেউ বলতে লাগল: আজ তাদের সব ইন্দ্রজাল ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।

বিজয় ও প্রশান্তি

মুসলমানদের যতখানি শিক্ষা দেবার ও সতর্ক করার দরকার ছিল, আল্লাহ তা’আলা যতটুকু চেয়েছিলেন তা হয়ে গেল। সংখ্যাধিক্য তাদেরকে যতটা উৎফুল্ল করেছিল, আত্মপ্রসাদে উজ্জীবিত করেছিল, আল্লাহ তা’আলা (মক্কা) বিজয়ের মিষ্টতা উপভোগের পর পুনরায় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ চাখালেন যাতে তাদের ঈমান অধিকতর মজবুত হয় এবং বিজয়ের দরুন তাদের ভেতর কোনরূপ আত্মশ্লাঘা এবং পরাজয়ের দরুন কোনরূপ হতাশা সৃষ্টি না হয়। সেজন্য তিনি তাদেরকে পুনরায় আক্রমণাত্মক ভূমিকায় পৌঁছে দিলেন এবং আপন রাসূল ও সমস্ত মুসলমানদের ওপর এক ধরনের প্রশান্তি (সাকীনা) নাযিল করলেন। রাসুলুল্লাহ (সা) তখন সাদা রঙের একটি খচ্চরের ওপর নির্ভীক ও निःশংক চিত্তে বসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে মুহাজির, আনসার ও আহলে বায়তের খুব কম লোকই তখন ছিলেন। ‘আব্বাস (রা) ইবন আবদুল-মুত্তালিব তখন রাসুলুল্লাহ (সা)-এর খচ্চরের লাগাম ধরেছিলেন আর তিনি বলে চলেছিলেন:

“আমি নবী, মিথ্যা নয় তা; আমি আবদুল মুত্তালিব বংশধর (মিথ্যা নয় তাও)।”

এমতাবস্থায় মুশরিকদের একটি দল তাঁর মুখোমুখি এসে উপস্থিত হতেই তিনি এক মুঠো মাটি নিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করলেন যা তাদের সকলের চোখমুখ ভরে দিল।

তিনি দেখতে পেলেন সকলেই আপন আপন চিন্তায় ব্যস্ত। তখন তিনি পিতৃব্য আব্বাস (রা)-কে এই বলে চীৎকার দিয়ে ডাকতে বললেন: يامعشر الانصار , يا اصحاب السمرة “হে আনসারেরা! ওহে বাবুল বৃক্ষের সঙ্গী-সাথীবৃন্দ!” এই ঘোষণা শুনতেই লাব্বায়েক! লাব্বায়েক! আমরা হাজির আছি, আমরা হাজির! বলে পলায়নরত মুসলমানরা ফিরে দাঁড়াল। হযরত আব্বাস (রা) খুবই দরাজ কণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তাঁর আওয়াজ কারো কানে গিয়ে পৌঁছতেই তিনি উটের পিঠ থেকে লাফিয়ে নেমে পড়তেন এবং তলোয়ার ও ঢাল হাতে রাসুলুল্লাহ (সা)-এর পাশে ছুটে আসতেন। এভাবে একটি বিরাট জামা’আত সৃষ্টি হতেই তাঁরা কাফিরদের সঙ্গে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তুমুল যুদ্ধ শুরু হল। রাসুলুল্লাহ (সা) আপন বাহিনীসহ একটি টিলায় উঠলেন এবং চারদিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন উভয় পক্ষ তুমুল যুদ্ধে লিপ্ত। এতদ্দৃষ্টে তিনি বললেন: এখন উনুন উত্তপ্ত হয়ে গেছে। এরপর তিনি কিছু পাথর কণা হাতে নিয়ে কাফিরদের দিকে নিক্ষেপ করলেন। হযরত ‘আব্বাস (রা) বলেন: এরপর থেকে আমি দেখতে লাগলাম শত্রুর আক্রমণ শক্তিতে ক্রমেই ভাটা পড়ছে এবং তাদের পিছূ হটাতে দেখা যাচ্ছে।

উভয় পক্ষই প্রাণপণ শক্তিতে লড়াই করে। তখনও লোকে পরাজিত হয়ে পুরোপুরি ফিরেও আসেনি এমনি মুহূর্তে দেখা যেতে লাগল কাফিরদের বন্দীরা হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা) সমীপে হাজির। আল্লাহ তা’আলা বিজয় ও সাহায্যকারী ফেরেশতা নাযিল করেন এবং গোটা উপত্যকা তাঁদের দ্বারা পরিপূর্ণ হয়ে যায়। আর এভাবেই হাওয়াযিনদের পরাজয় সম্পূর্ণ হয়।

“আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করেছেন বহু ক্ষেত্রে এবং হুনায়ন যুদ্ধের দিনে যখন তোমাদেরকে উৎফুল্ল করেছিল তোমাদের সংখ্যাধিক্য, কিন্তু তা তোমাদের কোন কাজে আসেনি এবং বিস্তৃত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী তোমাদের জন্য সংকুচিত হয়েছিল এবং পরে তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করেছিলে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর নিকট থেকে তাঁর রাসূল ও ম’মিনদের ওপর প্রশান্তি বর্ষণ করেন এবং এমন এক সেনাবাহিনী অবতীর্ণ করেন যা তোমরা দেখতে পাওনি এবং তিনি কাফিরদেরকে শাস্তি প্রদান করেন। আর এটাই কাফিরদের কর্মফল” (সূরা তাওবা, ২৫-২৬ আয়াত)।

ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধ

আরবদের বুকে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল হুনায়ন যুদ্ধের পর তা স্তিমিত হয়ে যায় এ জন্য যে, এই যুদ্ধ তাদের অবশিষ্ট শক্তিটুকুও নিঃশেষ করে দেয় এবং তাদের তূণীরের সমস্ত তীরই অকেজো করে দেয়। তাদের জন সমষ্টি অপমানিত ও হতবল হয়ে যায় এবং তাদের অন্তর মানস ইসলাম গ্রহণের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।

আওতাস উপত্যকায়

হাওয়াযিন গোত্র পরাজিত হওয়ার পর তাদেরই একটি দল, যার মধ্যে গোত্রের সর্দার মালিক ইবন আওফ ছিল, তায়েফে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং সেখানে দুর্গের দ্বার বন্ধ করে দেয়। আরেকটি দল আওতাস নামক উপত্যকায় ছাউনি ফেলে। তাদের পশ্চাদ্ধাবনের নিমিত্ত রাসুলুল্লাহ (সা) আবূ আমের আল-আশ’আরীর নেতৃত্বে একটি অভিযান পাঠান। তারা ওদের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং তাদেরকে পরাজিত করে। হুনায়ন-এর লব্ধ সম্পদ, গোলাম-বাঁদী প্রভৃতি এই সময় রাসুলুল্লাহ (সা)-এর খিদমতে পৌঁছলে তিনি এসব ‘জিরানা’ নামক স্থানে পাঠিয়ে দেন এবং তাদেরকে সেখানেই নিরাপদ প্রহরাধীনে রাখা হয়।

যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মধ্যে গোলাম-বাঁদীর সংখ্যা ছিল ছয় হাজার, উট ২৪,০০০ বকরী ৪০,০০০-এর বেশি। আরও চার হাজার আওকিয়া রৌপ্য এর অন্তর্ভুক্ত।

ছিল। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সম্পদের ভেতর এই পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ।

রাসূলুল্লাহ (সা) হুনায়ন যুদ্ধে আপন সাহাবায়ে কিরাম ও জিহাদের সঙ্গী-সাথীদের এই নির্দেশ দেন যে, কোন নারী-পুরুষ ও শিশু কিংবা গোলাম যারা কাজের উপযুক্ত তাদের ওপর যেন হাত তোলা না হয়। এ সময় তিনি হুনায়ন যুদ্ধে নিহত একটি নারীর জন্য আক্ষেপ করেন।