আযওয়াজে মুতাহ্হারাত

আযওয়াজে মুতাহ্হারাত
(পবিত্র নবী সহধর্মিনীগণ ও সন্তান-সন্ততিবর্গ)

পবিত্র নবী-সহধর্মিনীগণ

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পবিত্র সহধর্মিনীগণের মধ্যে প্রথমেই হযরত খাদীজা (রা) বিনতে খুওয়ায়লিদের নাম আসে। নবুওয়াতের পূর্বে হযরত খাদীজার বয়স যখন চল্লিশ বছর তখন তিনি রাসূল (সা)-এর পত্নীত্ব বরণ করেন। নবুওয়াত লাভের পর রাসূল (সা)-এর জীবনে যত দুর্যোগ ও বিপদ-আপদ নেমে এসেছিল তিনি তার সবটাতেই সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং সর্বপ্রকার ত্যাগ-তিতিক্ষাতেই তিনি তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।

প্রেম ও ভালবাসা, সাহায্য-সহানুভূতি, এমন কি আপন ধন-সম্পদসহ সর্বস্ব বিলিয়েও তাঁকে সান্ত্বনা ও সহানুভূতি প্রদর্শনের চেষ্টা চালিয়েছেন। হিজরতের তিন বছর পূর্বে তাঁর ইনতিকাল হয়। সায়্যিদুনা ইবরাহীম (রা) ব্যতিরেকে হূযূর (সা)-এর সকল সন্তান-সন্ততিই তাঁর গর্ভজাত। রাসূলুল্লাহ (সা) সব সময় হযরত খাদীজা (রা)-এর প্রশংসা করতেন এবং কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তাঁর কথা উল্লেখ করতেন। কখনো এমনও দেখা যেত, বকরী যবাহ করা হলে এর বিভিন্ন অংশ আলাদা করে হযরত খাদীজা (রা)-এর (জীবিত) সখীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন।

তাঁর ইনতিকালের কিছুকাল পর হযরত সাউদা (রা) বিনতে যাম’আ রাসূলুল্লাহ (সা)-এর জীবন-সঙ্গিনী হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেন। এরপর তিনি হযরত আয়েশা (রা)-কে বিয়ে করেন। স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন রাসূল (সা)-এর সবচেয়ে প্রিয়তমা। উম্মাহর মহিলাদের মধ্যে ইলমে দীন ও ফিকহশাস্ত্রে তাঁর সমকক্ষ কেউ ছিলেন না। বড় বড় সাহাবা পর্যন্ত বিভিন্ন মাসলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে তাঁর শরণাপন্ন হতেন এবং সেক্ষেত্রে তাঁর ফতোয়া ও অভিমত জানতে চাইতেন। এরপর তিনি হযরত ওমর (রা) কন্যা হযরত হাফসা (রা)-কে বিয়ে করেন। এরপর তিনি হযরত যয়নব (রা) বিনতে খুযায়মাকে বিয়ে করেন। কিন্তু বিয়ের দু’মাস পরই তিনি ইনতিকাল করেন। অতঃপর হযরত উম্মু সালামা (রা)-এর সঙ্গে রাসূল (সা)-এর বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। সহধর্মিনীদের মধ্যে উম্মু সালামা (রা) সবশেষে

ইনতিকাল করেন। এরপর তিনি যয়নব (রা) বিনতে জাহাশকে বিয়ে করেন। ইনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা)-র ফুফু উমায়মার কন্যা। এরপর বনু মুস্তালিক গোত্রের জুওয়ায়রিয়া (রা) বিনতুল-হারিছ-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। অতঃপর বিখ্যাত কুরায়শ দলপতি আবূ সুফিয়ান কন্যা উম্মু হাবীবা, অতঃপর বনু নাদীর গোত্রের দলপতি হুয়ায়ি ইবন আখতার কন্যা হযরত সাফিয়্যা (রা)-কে বিয়ে করেন। হুয়ায়ি ছিলেন হযরত মূসা (আ) ভ্রাতা হযরত হারূন ইবন ইমরান (আ)-এর বংশধর। এরপর তিনি হারিছ আল-হিলালীর কন্যা মোয়মূনা (রা)-কে বিয়ে করেন। স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সর্বশেষে যিনি এই সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

এতে কোনই দ্বিমত নেই যে, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইনতিকালের সময় তাঁর নয়জন স্ত্রী বর্তমান ছিলেন। হযরত খাদীজা (রা) ও হযরত যয়নব বিনতে খুযায়মা (রা) তো হূযূর (সা)-এর জীবিতকালেই ইনতিকাল করেছিলেন। হযরত আয়েশা (রা) ব্যতিরেকে আর সকলেই ছিলেন পূর্ব বিবাহিতা (ও বিধবা)।

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইনতিকালের সময় তাঁর দু’জন দাসী বর্তমান ছিলেন যাঁর মধ্যে মারিয়া (রা) বিনতে শামউন ছিলেন অন্যতম। ইনি জাতিতে ছিলেন মিসরীয় কিবতী (কপ্ট) পরিবারের খৃষ্টান। মিসরের শাসককর্তা মুকাওকিস তাঁকে রাসূল (সা)-এর খেদমতে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন। সায়্যিদুনা ইবরাহীম (রা) ছিলেন হযরত মারিয়া (রা)-র গর্ভজাত। অপরজন রায়হানা বিনতে যায়দ (রা) যিনি বনু নাদীর গোত্রের ছিলেন। ইসলাম গ্রহণের পর তিনি তাঁকে মুক্ত করে দেন এবং আপন স্ত্রীত্বে গ্রহণ করেন।

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর ইনতিকালের পর মুসলমানদের জন্য তাঁর সহধর্মিণীদের বিয়ে করা আল্লাহ তা’আলা হারাম ঘোষণা করেন। কেননা তাঁরা মুমিনদের মাতৃস্থানীয়া (উম্মাহাতুল-মু’মিনীন)। বিয়ে অবৈধ ঘোষিত না হলে সম্পর্কের এই পবিত্রতা রক্ষা পেত না, যে সম্পর্ক নবীর সঙ্গে উম্মতের চিরকালীন। আল্লাহ তা’আলা বলেন :

“আল্লাহ্‌র রাসূলকে কষ্ট দেওয়া তোমাদের জন্য শোভন নয় এবং এও শোভন

নয় তারপর তার স্ত্রীদের কখনো বিয়ে করা। আল্লাহর নিকট এ এক গুরুতর অপরাধ” (সূরা আহযাব, ৫৩ আয়াত)।

ইবন কাছীর উল্লেখিত আয়াতের তাফসীরে লিখেন :

“আলিমেগণ সর্ববাদীসম্মতভাবে একমত যে, তাঁর (রাসূলের) ইনতিকালের পর অপর যে কারো পক্ষে তাঁর পবিত্র সহধর্মিণিগণকে বিয়ে করা হারাম। আর তা এজন্য যে, দুনিয়া ও আখিরাতে উভয় জগতেঈ তাঁর স্ত্রীগণ অপরাপর সকল মু’মিনের মা।”

হযরতের বহু বিবাহ : এক নজরে

রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর জীবনের একটি অংশ একাকী ও নিঃসঙ্গ অবস্থায় অতিবাহিত করেন। আর এই সময়টি ছিল জীবনের সেই ২৫ বছর যা যৌবনের একটি বিশেষ মুহূর্ত। তিনি একজন পরিপূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আরব নওজোয়ানের সর্বোত্তম নমুনা ছিলেন। মরু আরবে তিনি লালিত-পালিত হয়েছিলেন। সভ্যতা ও সংস্কৃতির যাবতীয় রোগ-ব্যাধি ও ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকে আল্লাহ পাক তাঁকে হেফাজত করেছিলেন। অশ্বারোহণ ও পুরুষোচিত গুণাবলীর বিস্তর অংশ তাঁর ভাগ্যে জুটেছিল আরবদের দৃষ্টিতে যার গুরুত্ব ছিল বিরাট। মনোবিজ্ঞানিগণও তা স্বীকার করেন।

সে যুগে তাঁর নিকটতম দুশমনও (নবুওয়াতের পূর্বে, যে যুগ তাঁর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও নাযুক ছিল) তাঁর ওপর এ বিষয়ে সমালোচনা করার এতটুকু সুযোগ পায়নি এবং নবুওয়াত লাভের পর আজ পর্যন্ত কেউ এ ব্যাপারে তাঁর সমালোচনাও করেনি। চারিত্রিক সততা ও পবিত্রতা, দৃষ্টি ও আত্মার শুচি-শুভ্রতা এবং নিষ্পাপ সারল্যের তিনি ছিলেন সর্বোত্তম নমুনা। তিনি এমন সব দুর্বলতা থেকে বহু দূরে ছিলেন যা ছিল তাঁর যথাযথ মর্যাদার পরিপন্থী। 

পঁচিশ বছর বয়সে তিনি সর্বপ্রথম হযরত খাদীজা (রা)-কে বিয়ে করেন যাঁর বয়স ছিল তখন চল্লিশ বছর এবং যিনি ছিলেন একজন বিধবা। এর পূর্বে তাঁর আরও দু’বার বিয়েও হয়েছিল এবং সে ঘরে তাঁর (খাদীজার) সন্তানাদিও ছিল। অতঃপর বিখ্যাত উক্তি মতে দু’জনের বয়সের মধ্যে পার্থক্য ছিল পনের বছরের। এরপর তিনি (রাসূল সা) হযরত সাউদা বিনতে যামআ (রা)-কে বিয়ে করেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ(সা)-র বয়স ছিল পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে। হযরত সাউদা (রা)-এর স্বামী আবিসিনিয়ায় মুহাজির অবস্থায় ইনতিকাল করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) হযরত

আয়েশা (রা) ব্যতিরেকে আর কোন কুমারী ও অবিবাহিতাকে বিয়ে করেননি। এছাড়া যতগুলো বিয়ে তিনি করেছিলেন সবগুলো বিয়ের ক্ষেত্রে দীন ও দীনের দাওয়াতের কোন সার্বিক কল্যাণ, বদান্যতা ও অন্তরের ঔদার্য প্রদর্শন, চারিত্রিক মহত্ত্ব, মুসলমানদের কোন সার্বিক কল্যাণ কিংবা বিরাট কোন সামাজিক বিপদ ও অনা সৃষ্টি রোধ ছিল মূল উদ্দেশ্য। আত্মীয়তা ও বৈবাহিক সম্পর্ক আরবদের গোত্রীয় ও সমাজ জীবনে যে গুরুত্ব বহন করত এতটা বোধ করি অপর কোন সমাজে ছিল না। এজন্যই নতুন আত্মীয়তা ও বৈবাহিক সম্পর্ক ইসলামের দাওয়াত ও ইসলামী আদর্শ সমাজের ইতিহাসে, রক্তপাত রোধে ও আরব গোত্রগুলোর অনিষ্ট ও অপকারিতা থেকে আত্মরক্ষার অন্যতম উপকরণ হিসেবে বিবেচিত হত।

অধিকন্তু এসব পবিত্র সহধর্মিণীদের সঙ্গে হযরত (সা)-এর জীবন যাপন কোনরূপ আরাম-আয়েশ কিংবা ভোগ-বিলাসের জীবন ছিল না যা সাধারণত অনেকের বহু বিবাহের পেছনে লক্ষ্য হিসেবে থাকে। এই জীবন ছিল নিরাসক্ত ও নির্লিপ্ত যুহ্দ-এর জীবন, ছিল আত্মোৎসর্গ ও ত্যাগ-তিতিক্ষার জীবন, ছিল অল্পে তুষ্টির জীবন, যে ধরনের জীবন যাপনের সামর্থ্য প্রাচীন ও আধুনিক যুগের বড় বড় উৎসাহী ও অটুট সংকল্পের অধিকারী খ্যাতনামা যাহিদদের ভেতরেও পাওয়া যাবে না। এর সামান্যতম ঝলক ও নমুনা ‘আখলাক ও শামায়েল’ অধ্যায়ে পেশ করা হবে। তথাপি একজন ন্যায়পরায়ণ ও বিবেকবান ব্যক্তির জন্য এখানে উল্লেখিত কুরআন করীমের এই একটি আয়াতই যথেষ্ট হবে।

“হে নবী! তুমি স্ত্রীদেরকে বল, তোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার ভূষণ কামনা কর, তবে এস আমি তোমাদের ভোগ-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিই এবং সৌজন্যের সাথে তোমাদের বিদায় দেই। আর যদি তোমরা আল্লাহ্, তাঁর রাসূল ও আখিরাত কামনা কর তবে তোমাদের মধ্যে যারা সৎকর্মশীল আল্লাহ তাদের জন্য মহাপ্রতিদান প্রস্তুত রেখেছেন” (সূরা আহযাব, ২৮-২৯ আয়াত)।

এই উচ্চতর মহান উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য, পবিত্র প্রেরণা, পাক-সাফ মস্তিষ্ক এবং

গভীরতর ও প্রজ্ঞাসুলভ প্রশিক্ষণের প্রভাব ছিল এই যে, আযওয়াজে মুতাহ্হারাত -এর সকলেই কোনরূপ দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সামান্যতম ইতস্তত না করেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং পারলৌকিক জীবনকেই অগ্রাধিকার প্রদান করেন। দৃষ্টান্ত হিসাবে হযরত আয়েশা (রা)-এর সেই জবাবই আশা করি যথেষ্ট হবে যা তিনি এ ব্যাপারে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন : তিনি এই আয়াত আমার সামনে তেলাওয়াত করে বললেন : আল্লাহ পাক তোমাদের সামনে দু’টো বিষয় পেশ করেছেন এবং এর যে কোন একটি এখতিয়ার করার ব্যাপারে তোমাদেরকে স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। এখন তোমরাই বল তোমরা কোনটি অবলম্বন করবে। আর হ্যাঁ, ভেবেচিন্তে কিন্তু উত্তর দেবে, তাড়াহুড়া করবে না। প্রয়োজনে আব্বা-আম্মার সঙ্গেও পরামর্শ করে নেবে। উত্তরে তিনি বললেন : ভাল, এ ব্যাপারে আমার আব্বা-আম্মার সঙ্গে পরামর্শের প্রয়োজন কোথায়? আমি তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং পারলৌকিক আবাসী কামনা করি। হযরত আয়েশা (রা) বলেন, অন্য সহধর্মিনীগণও রাসূলুল্লাহ (সা)-কে একই উত্তর দিয়েছিলেন।

স্ত্রীদের সংখ্যা ও এর মনস্তাত্ত্বিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক প্রভাব ও চাহিদা রাসূলুল্লাহ (সা)-র ইসলামের পথে লোকদের দাওয়াত প্রদানের মহান দায়িত্ব, দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ-তিতিক্ষার জীবন এবং মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারগুলো সম্পর্কে এক মুহূর্তের তরেও গাফিল করে দেয়নি, বরং এর দ্বারা তাঁর তৎপরতা, অদম্য মনোবল ও শক্তি-সাহস আরও বৃদ্ধিই পেয়েছিল। নবী করীম (সা)-এর পবিত্র জীবনসঙ্গিনীগণ ইসলামের প্রচার-প্রসার ও দীনের তা’লীম-এর মহান লক্ষ্য অর্জনে তাঁর সাহায্যকারী ও মদদগার ছিলেন। যুদ্ধে তাঁর সঙ্গে তাঁরা শরীক হতেন, আহত ও পীড়িতদের চিকিৎসা ও সেবা-শুশ্রূষা করতেন। রাসূল (সা)-এর পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের এক-তৃতীয়াংশ এবং এছাড়াও আরও বহুবিধ বিধি-বিধান ও শিক্ষামালা নবী সহধর্মিনীগণের অবদানধন্য। মুসলমানরা এসব তাঁদের থেকেই শিখেছেন, স্মরণে রেখেছেন, অতঃপর তাঁরা অন্যদেরকে তা বলেছেন এবং শিখিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কেবল হযরত আয়েশা (রা)-এর নাম নেওয়াই আশা করি যথেষ্ট

হবে যাঁর সম্পর্কে রিজালশাস্ত্র ও তাবাকাতের ইমাম যাহাবী (মৃ. ৭৪৮ হি.) তদীয় তাযকিরাতুল-হুফফাজ নামক বিখ্যাত গ্রন্থে লিখেছেন :

“তিনি ফিকহশাস্ত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞ ফকীহ সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বিশিষ্ট ছিলেন। বিভিন্ন মসলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কিরাম (রা) তাঁর শরণাপন্ন হতেন। কাবীসা বিনতে ভুওয়ায়েব (রা) থেকে বর্ণিত যে, হযরত আয়েশা (রা) মসলা-মাসায়েল সম্পর্কে সর্বাধিক অভিজ্ঞ ছিলেন। শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগণও তাঁর নিকট মসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেন। আবু মূসা (রা) বলেন, আমরা রাসূল (সা)-এর সাহাবীরা কোন হাদীস বুঝতে অসুবিধার সম্মুখীন হলে আয়েশা (রা)-কে জিজ্ঞেস করতাম এবং এ বিষয়ে তিনি অবশ্যই জানতেন। হাসসান (রা) বলেন : আমি কুরআন মজীদ, হালাল-হারাম, ফারায়েয ও বিধি-বিধান, কবিতাবলী, আরবের ইতিহাস ও আরবদের নসবনামা (বংশ-পরিচয়) সম্পর্কে তাঁর চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ আর কাউকে পাইনি।”

মহোত্তম চরিত্র, উন্নত মনোবল, দানশীলতা, মানুষের দুঃখ-কষ্টে সমবেদনা জ্ঞাপন ও সহানুভূতি প্রদর্শন এবং স্নেহ-মমতা বিষয়ে তাঁর সম্পর্কে যতই বলা হোক তা কমই হবে। এ ব্যাপারে একটি বর্ণনা আশা করি যথেষ্ট হবে যা হিশাম তাঁর পিতা থেকে উদ্ধৃত করেছেন। আর তা এই যে, একবার হযরত মু’আবিয়া (রা) হযরত আয়েশা (রা)-এর খেদমতে এক লক্ষ দিরহাম পাঠান। আল্লাহর কসম করে বলছি, এক মাসও হয়নি হযরত আয়েশা (রা) এর সবটাই অভাবী লোকদের মধ্যে বিলিয়ে দেন। তাঁর দাসী তাঁকে বলল, যদি আপনি অন্তত এক দিরহাম দিয়েও গোশত খরিদ করতেন তাহলে কতই না ভাল হত!

এ কথা শুনে হযরত আয়েশা (রা) বললেন : তখন তুমি আমাকে মনে করিয়ে দাওনি কেন? আর সে সময় তিনি রোযাদার ছিলেন।

বিষয়টা নিয়ে পাশ্চাত্যের বহু প্রাচ্যবিদ মাথার ঘাম ঝরিয়েছেন। এটি তাঁদের মাথাকে গুলিয়ে দিয়েছে। আর এর পেছনে কারণ হল তাঁরা আরব দেশগুলোতে ও ইসলামী শরীয়তে দাম্পত্য জীবনের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাকে পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণা, অবস্থা, অভ্যাস ও প্রথা-পদ্ধতির অনুগত ও অনুসারী বানাতে চেয়েছেন। তাঁরা পাশ্চাত্যের মাপকাঠিকে (যা একটি বিশেষ সমাজ ও সভ্যতার সৃষ্ট ফসল) এই অবস্থার ওপর চাপিয়ে দিতে প্রয়াস পেয়েছেন যা ছিল মানুষের সুস্থ-স্বাভাবিক প্রকৃতি ও আরব পরিবেশের অনুকূল এবং যার পেছনে বিভিন্ন নৈতিক ও সামাজিক কল্যাণ চিন্তা

কার্যকর ছিল এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যার অনুমতিও ছিল। এটি আসলে পাশ্চাত্য চিন্তাধারা ও পাশ্চাত্য লেখকদের একটি দুর্বল দিক যে, তাঁরা প্রথমেই পাশ্চাত্যকে মানদণ্ড হিসাবে ধরে নেন। এরপর যা কিছুই এর বিরোধী তার বিরুদ্ধেই তাঁরা নির্মমভাবে তাদের সিদ্ধান্ত শুনিয়ে দেন। তাঁরা নিজেরাই একটি সমস্যা দাঁড় করান যার কোন ভিত্তি থাকে না। এরপর তাঁরা তার সমাধানে হন্যে হয়ে ছোটেন। এটা তাঁদের জাতীয় অহমিকা এবং পাশ্চাত্যের মনলোভা চিন্তাধারা ও কষ্ট-কল্পনার সীমাতিরিক্ত ভাল মানুষীর ফল।

ইংরেজ লেখক মি. বোদলে (R.C. Bodley) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পবিত্র সহধর্মিণিগণের বিষয় উল্লিখিত পাশ্চাত্য অনুভূতি ও চিন্তাধারার ওপর অত্যন্ত ন্যায়পরতা ও সাহসিকতার সঙ্গে সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন:

“মুহাম্মদ (সা)-এর দাম্পত্য জীবনকে যেমন পাশ্চাত্যের মাপকাঠিতে যাচাই করার প্রয়োজন নেই, তেমনি প্রয়োজন নেই সেই সব প্রথা ও আইনের দৃষ্টিভোগ থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার, যেগুলো খৃষ্টবাদ জন্ম দিয়েছে। এরা পাশ্চাত্যের লোক নন, নন তাঁরা খৃষ্টানও, বরং তাঁরা এমন এক দেশে এবং এমন এক যুগে জন্ম নিয়েছিলেন যেখানে তাঁদের নিজেদেরই নৈতিক ও চারিত্রিক বিধানের চল ছিল। এতৎসত্ত্বেও আমেরিকা ও ইউরোপের নৈতিক ও চারিত্রিক বিধানকে আরবদের নৈতিক ও চারিত্রিক বিধানের চেয়ে উত্তম ভাবার কোন কারণ নেই। পাশ্চাত্যের কাছে প্রাচ্যকে দেবার মত অনেক কিছুই আছে, কিন্তু নিজেদের জীবন পদ্ধতিতে উত্তম এবং নিজেদের নৈতিক ও চারিত্রিক বিধানকে উন্নত প্রমাণ করবার জন্য তাঁদের এখনও অনেক অনুসন্ধান চালানো দরকার। অতএব, তাঁদের অপরের ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে কটূকাটব্য করা থেকে বিরত থাকাই ভাল বোধ করি।”

এছাড়া স্ত্রীর সংখ্যার সেই অনিষ্টতা যা আজ পাশ্চাত্য জগতে এক অবধারিত সত্যে পরিণত হয়েছে এবং পাশ্চাত্যবাসী একে চোখ বন্ধ করে মেনে নিয়েছে, এমন কোন অনিষ্ট নয় যা শতাব্দীর পর শতাব্দী এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম প্রতিষ্ঠিত থাকবে। এটি না কোন স্বীকৃত তাত্বিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত, আর না তা মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক প্রকৃতির অনুকূলে। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি খেয়ালী ও আবেগ উদ্দীপক অনিষ্টতা যা উৎসাহী ও শক্তিশালী প্রচার-প্রোপাগান্ডার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে এবং পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে যে, কালের তীব্র গতি এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রশিক্ষণমূলক প্রবণতা ও অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে এর জোর কেবল কম হয়ে যাবে না, বরং চিরতরে নিঃশেষ হয়ে যাবে।

একজন পাশ্চাত্য লেখক (Alwin Toffler) তাঁর Future Shock নামক গ্রন্থে, যিনি এই গ্রন্থ রচনার মাধ্যমে পাশ্চাত্যে এক বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন, এই মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিতও প্রদান করেছেন নিকট ভবিষ্যতে যার সম্ভাবনা বিদ্যমান।

রাসূলুল্লাহ (সা)-র সন্তান-সন্ততি

হযরত খাদীজা (রা)-এর গর্ভে রাসূলুল্লাহ (সা)-এর আল-কাসেম নামক এক পুত্রের জন্ম হয়। তাঁর কারণেই তিনি আবুল-কাসেম (কাসেমের পিতা) নামে পরিচিত হন। শৈশবেই তাঁর ইন্তেকাল হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে হযরত যয়নব, হযরত রু কায়্যা, হযরত উম্মু কুলছুম ও হযরত ফাতিমা (রা)-এর জন্ম হয়। পুত্রদের মধ্যে হযরত আবদুল্লাহ, হযরত তাইয়িব ও হযরত তাহির (রা) সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ এদেরকে তিনজন গণ্য করেছেন। কিন্তু আল্লামা ইবনুল-কাইয়িম (রা)-এর সুচিন্তিত অভিমত হল, তাইয়িব ও তাহির হযরত আবদুল্লাহর উপাধি ছিল। এঁরা সকলেই হযরত খাদীজা (রা)-র গর্ভজাত।

হযরত ফাতিমা (রা) ছিলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়তমা কন্যা। তিনি হযরত ফাতিমা (রা) সম্পর্কেই বলেছিলেন: সে জান্নাতে নারীদের সর্দার হবে। তিনি আরো বলেছেন, “ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ; যাতে তার কষ্ট হয় তাতে আমারও কষ্ট হয়।” আহলে বায়ত-এর সদস্যদের মধ্যে সর্বপ্রথম তিনিই দুনিয়া থেকে বিদায় নেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সঙ্গে মিলিত হন।

মারিয়া কিবতিয়া (রা)-এর গর্ভে ইবরাহীম (রা) নামক তাঁর (রাসূলুল্লাহ (সা)-এর) এক পুত্রের জন্ম হয়। তাঁর ইন্তেকাল হয় শৈশবেই দোলনায় থাকা অবস্থায়। তাঁর ইন্তেকালে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছিলেন:

“চক্ষু অশ্রুসিক্ত, হৃদয় বিষাদক্লিষ্ট; কিন্তু আমি এমন কথা বলব না যা আমার প্রভু-প্রতিপালককে অসন্তুষ্ট করবে। হে ইবরাহীম! আমি তোমার শোকে শোকাভিভূত।”

তাঁর ইন্তিকালের দিন সূর্যগ্রহণ হয়। সাহাবা-ই কিরাম (রা) বলাবলি শুরু করলেন যে, ইবরাহীম (রা)-এর ইন্তিকালের দরুন সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তিনি এ সময় সাহাবা-ই কিরাম (রা)-কে সমবেত করে তাঁদেরকে সম্বোধন করলেন এবং বললেন, চন্দ্র-সূর্য আল্লাহ জাল্লা শানুহুর নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত দুটো নিদর্শন। কারও মৃত্যুতে এর গ্রহণ হয় না অর্থাৎ চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের সঙ্গে কারো মৃত্যুর কোনই সম্পর্ক নেই।

অতি ভক্তি ও ব্যক্তিপূজার উৎসাধন

রাসূলুল্লাহ (সা) এরূপ এহতিমামের সঙ্গে সাহাবা-ই কিরাম (রা)-কে সমবেত করে তাঁদেরকে সম্বোধন করলেন এবং খোলাখুলি বললেন যে, সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ এবং সৃষ্টি জগতের যে কোন পরিবর্তনের সঙ্গে কারো জন্ম কিংবা মৃত্যুর সম্পর্ক নেই, জন্মগ্রহণকারী কিংবা মৃত্যুবরণকারীর সম্মান মর্যাদা যা-ই হোক না কেন এবং প্রিয় থেকে প্রিয়তর কোন ব্যক্তিত্বের সঙ্গেই তাঁর সম্পর্ক থাকুক না কেন। রাসূল (সা)-এর এই আমল কল্পনা পূজা, বরং কারো প্রতি অতি ভক্তি বা সুধারণা ও ব্যক্তিপূজার জড় কেটে দিয়েছে। দুনিয়ার কোন ধর্ম প্রচারক, কোন নেতা, কোন আন্দোলনের পতাকা বাহী, কোন মানব সৃষ্ট দল কিংবা সংগঠনের নেতা হলে তিনি এক্ষেত্রে কমপক্ষে এতটুকু করতেন যে, তিনি এ ধরনের ধারণা বা বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান না করে চুপ করে থাকতেন এই আশায় যে, বিষয়টি আমাদের আন্দোলনের স্বার্থে যাচ্ছে। আমি তো কিছু বলিনি কিংবা কাউকে বলতেও বলিনি। এমনিতেই মানুষের মনে এ ধরনের ধারণার উদয় ঘটেছে যে, পয়গম্বর পুত্রের ইন্তিকালে সূর্যগ্রহণ হয়েছে। এটি প্রত্যাখ্যান করা এমন কিছু জরুরী নয়।

একজন পয়গম্বর ও একজন অপয়গম্বরের মধ্যে মূলত এখানেই পার্থক্য। রাজনৈতিক মন-মানস ও চিন্তা-চেতনার অধিকারী একজন মানুষ যেসব ঘটনা থেকে ফায়দা লুটতে প্রয়াস পান (চাই সেসব ঘটনা তার এখতিয়ার বহির্ভূতভাবেই ঘটুক না কেন), একজন পয়গম্বর সেক্ষেত্রে আকীদা-বিশ্বাসের বিপর্যয় এবং ধর্মের জন্য ক্ষতিকর কোন কিছু মেনে নেন না। এ থেকে কোনরূপ ফায়দা হাসিল করাকে তিনি হারাম মনে করেন এবং একে তিনি তাঁর নবুওয়াতী পদমর্যাদার পরিপন্থী জ্ঞান করেন। এ সময় আল্লাহর রাসূল (সা) যদি কোন কথা না বলে চুপ থাকতেন তবে এর দ্বারা দুনিয়ায় এমন কোন বিরাট বিপর্যয় দেখা দিত না বটে, তবে একথা নিশ্চিত যে, এর ফলে তাওহীদী আকীদা-বিশ্বাসের ওপর এর প্রভাব

পড়ত এবং ব্যক্তিপূজা ও সৃষ্টিজগতের স্বাভাবিক ধারায় হস্তক্ষেপের আশংকার দ্বার খুলে যেত। আর এটি মানবীয় মন-মানসের এমন বিপর্যয় যা খুবই বিপজ্জনক। একজন সত্য নবীর পক্ষে এর চিকিৎসা ও এর দ্বার রুদ্ধ করা খুবই জরুরী ছিল।

হযরত যয়নব (রা)-এর বিয়ে হয়েছিল হযরত খাদীজা (রা)-এর ভাগ্নে আবুল-আস ইবন রবী’র সঙ্গে। তাঁদের পুত্রের নাম ছিল আলী এবং কন্যার নাম ছিল উমামা (রা)। হযরত রুকায়্যা (রা)-র বিয়ে হয়েছিল হযরত উছমান (রা)-এর সঙ্গে। তাঁর গর্ভে পুত্র আবদুল্লাহর জন্ম হয়। রাসুলুল্লাহ (সা) বদর প্রাঙ্গণে থাকাকালে হযরত রুকায়্যা (রা)-র ইন্তিকাল হয় এবং হযরত উছমান (রা) তখন তাঁর সেবা-শুশ্রূষা মানসে মদীনাতেই অবস্থান করছিলেন। পরে হযরত উছমান (রা)-এর বিয়ে হয় তদীয় বোন হযরত উম্মু কুলছুম (রা)-এর সঙ্গে। এজন্য তাঁকে “যুন-নূরায়েন বা দুই জ্যোতিঃ অধিকারী” বলা হয়। উম্মু কুলছুম (রা)-এর ইন্তিকালও রাসূল (সা)-এর জীবদ্দশায় হয়।

হযরত ফাতিমা (সা)-র বিয়ে হয় আবু তালিব তনয় ও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম-এর পিতৃব্য পুত্র হযরত আলী (রা)-র সঙ্গে। তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্রের নাম হাসান (রা) যে জন্য তাঁকে আবুল-হাসান অর্থাৎ হাসানের পিতা বলা হত। অপর পুত্রের নাম ছিল হুসায়ন (রা) যাঁদের সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছিলেন: এরা এই দুনিয়ায় আমার দু’টো ফুল। এদের সম্পর্কে তিনি এও বলেছিলেন, “এ দু’জন জান্নাতে যুবকদের সর্দার হবে।”

আল্লাহ তা’আলা এ দু’জনের সন্তান-সন্ততির ভিতর প্রচুর বরকত দান করেন এবং ইসলাম ও মুসলমানগণ তাঁদের দ্বারা প্রভূত উপকৃত হন। তাঁদের ভিতর বিরাট বড় নেতা, ইল্ম ও দীন এবং জিহাদ, যুহদ ও তাকওয়ার ইমাম জন্মগ্রহণ করেন। তাঁরা ইসলামের ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ে অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে মুসলমানদের নেতৃত্ব দানের দায়িত্ব আনজাম দিয়েছেন এবং জিহাদের পতাকা উড্ডীন করেছেন। হযরত ফাতিমা (রা)-এর গর্ভে হযরত আলী (রা)-এর দুই কন্যা হযরত যয়নব ও হযরত উম্মু কুলছুম (রা) জন্মগ্রহণ করেন। যয়নব (রা)-এর বিয়ে হয় তদীয় পিতৃব্য পুত্র আবদুল্লাহ ইবন জা’ফর (রা) ইবন আবী তালিব-এর সঙ্গে যিনি ছিলেন আরবের কতিপয় দানবীরের অন্যতম। আলী ও আওন ছিলেন এঁদের দুই পুত্র। উম্মু কুলছুম (রা)-এর বিয়ে হয় হযরত ওমর (রা) ইবনুল-খাত্তাবের

সঙ্গে। তাঁদের থেকে যায়দ নামক পুত্রের জন্ম হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা)-এর সমস্ত সন্তান-সন্ততির ইন্তিকাল হয় তাঁর জীবদ্দশাতেই। কেবল হযরত ফাতিমা (রা)-এর ইন্তিকাল হয় তাঁর ইন্তিকালের ছ’মাস পর।